স্বীকৃতির পর তালেবানের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করল রাশিয়া
তথ্যসূত্র: দ্য মস্কো টাইমস।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভফাইল ছবি: রয়টার্স।
রাশিয়া গত জুলাইয়ে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর গত মঙ্গলবার দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘মস্কো ফরম্যাট’ নামে আয়োজিত এই বৈঠকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেন এবং যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানান।
পশ্চিমা নীতির সমালোচনা ও পুনর্গঠনের আহ্বান
বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে লাভরভ তালেবান সরকারের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তালেবান সরকার নিজ দেশে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আঞ্চলিক শাখার বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং মাদক পাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তিনি আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্পদ জব্দ করে রাখা এবং দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ কাবুলের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের ‘মুখোমুখি অবস্থানের নীতির’ তীব্র সমালোচনা করেন।
লাভরভ বলেন:
”আমরা পশ্চিমা দেশগুলোকে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া এবং দেশটির পুনর্গঠনের দায়ভার নিতেও আহ্বান জানাচ্ছি।”
সামরিক ঘাঁটি নিয়ে সতর্কতা
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, আফগানিস্তান বা এর প্রতিবেশী দেশে অন্য কোনো দেশের সামরিক ঘাঁটি স্থাপন মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, “বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে, তা ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে। আমরা সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে পারি না।”
তবে আফগানিস্তানে নিয়োজিত রাশিয়ার বিশেষ দূত জামির কাবুলভ সাংবাদিকদের জানান, আফগানিস্তানের মাটিতে মস্কোর সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা নেই।
বৈঠকে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ছাড়াও ভারত, ইরান, পাকিস্তান এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পাঁচটি মধ্য-এশীয় প্রজাতন্ত্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে রাশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাত সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এর আগে রাশিয়া তালেবানকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে সরিয়ে তাদের রাষ্ট্রদূতকে গ্রহণ করে এবং গত বছর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালেবানকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের মিত্র’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
