ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একজোট ভারত, রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তান

সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লি।

রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘মস্কো ফরম্যাট কনসালটেশন’–এর বৈঠকে যোগ দেওয়া বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা। ৭ অক্টোবর ২০২৫, মস্কো
ছবি: রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

​আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি ফের যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাপ সৃষ্টি করায় আন্তর্জাতিক মহলে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। এই প্রচেষ্টার সরাসরি বিরোধিতায় আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত, চীন, পাকিস্তান ও রাশিয়া। আঞ্চলিক ইস্যুতে ভারত ও এই তিনটি দেশের একই পঙ্‌ক্তিতে দাঁড়ানোর এই দৃষ্টান্ত বিরল।

মস্কো বৈঠকে ট্রাম্পের দাবির বিরোধিতা

​ভারত এই যৌথ অবস্থান নিয়েছে গত মঙ্গলবার মস্কোয় অনুষ্ঠিত ‘মস্কো ফরম্যাট কনসালটেশন’-এর সপ্তম বৈঠকে। এই বৈঠকে গৃহীত যৌথ বিবৃতিতে বাগরাম বিমানঘাঁটির নাম উল্লেখ না করেই বলা হয়েছে:

​”আফগানিস্তান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোয় যারা সামরিক অবকাঠামো খাড়া করতে চায়, তাদের সেই উদ্যোগ সমর্থনযোগ্য নয়। কারণ, ওই উদ্যোগ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিপন্থী।”

​তালেবান সরকার ট্রাম্পের দাবি নাকচ করার পর এই প্রথম আফগানিস্তান মস্কো বৈঠকে সদস্যদেশ হিসেবে যোগ দেয়, যার প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি

মুত্তাকির ভারত সফর ও কূটনৈতিক তাৎপর্য

​এমন সময়ে ভারত এই ভূমিকা নিল, যখন তালেবানশাসিত আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি সরকারি সফরে নয়াদিল্লি আসছেন। মুত্তাকি আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ভারত সফরে আসছেন। আফগানিস্তানের রাজনৈতিক দখল নেওয়ার পর এই প্রথম সে দেশের কোনো মন্ত্রী ভারত সফরে আসছেন।

  • ​মুত্তাকি ৯ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতে থাকবেন। তাঁর বিদেশ সফরের ওপর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, এই সফরের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
  • ​আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও ভারত ও আফগান সরকারের মধ্যে সম্পর্ক উত্তরোত্তর ভালো হচ্ছে। ভারত সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর সে দেশে ত্রাণ পাঠিয়েছে এবং আফগানিস্তান সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছে।

ট্রাম্পের অব্যাহত চাপ

​যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ বছর আগে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হঠাৎ বাগরাম ঘাঁটি ফেরত চেয়ে বিশ্বকে বিস্মিত করেছেন।

  • ​গত ১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, “আমরা ওই বিমানঘাঁটি তালেবানদের ছেড়ে দিয়েছিলাম। বিনিময়ে কিছুই নিইনি। এখন ওই ঘাঁটি আমরা ফেরত চাই।”
  • ​এর দুই দিন পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ঘাঁটি যারা তৈরি করেছে (যুক্তরাষ্ট্র), আফগানিস্তান যদি তা ফেরত না দেয়, তা হলে “পরিণতি মারাত্মক হবে।”

​আফগানিস্তানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ্ মুজাহিদ অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, “কোনো পরিস্থিতিতেই আফগানরা তাদের জমি অন্য কাউকে হস্তান্তর করবে না।”

​যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের শুল্কযুদ্ধ এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধাচরণের নীতির মধ্যেই চীন, পাকিস্তান ও রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে আফগানিস্তানকে ভারতের সমর্থন জানানো যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *