নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের বাংলাদেশ পর্বে ২৭ দলের বিজয়
প্রযুক্তি ডেস্ক।

টানা ৩৬ ঘণ্টার নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় ২৭টি দল বিজয়ী হয়েছেছবি: বেসিস।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ হ্যাকাথন প্রতিযোগিতার বাংলাদেশ পর্বে মোট ২৭টি দল বিজয়ী হয়েছে। টানা ৩৬ ঘণ্টার এই অনলাইন হ্যাকাথন গত শুক্রবার শুরু হয়েছিল। গতকাল সোমবার প্রতিযোগিতার আয়োজক বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজয়ী দলগুলোর নাম প্রকাশ করেছে।
এবারের প্রতিযোগিতায় ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, খুলনা, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও সিলেটের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের সহযোগিতায় এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) পৃষ্ঠপোষকতায় টানা ১২ বারের মতো এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলো। এ বছর শিক্ষার্থীরা প্রায় ৫০০ প্রকল্প জমা দিয়েছেন।
অঞ্চলভিত্তিক বিজয়ী দলসমূহ
১. স্মার্টফোন বনাম অ্যাপোলো গাইডেন্স কম্পিউটার
আধুনিক স্মার্টফোনগুলো ১৯৬৯ সালে চাঁদে মানুষ পাঠানো অ্যাপোলো গাইডেন্স কম্পিউটার (এজিসি)-এর তুলনায় বহু গুণ শক্তিশালী। এই তুলনা থেকে বোঝা যায়, আজকের হাতের মুঠোয় থাকা প্রযুক্তির সক্ষমতা কতটা বিপুল।
- প্রসেসিং গতি: এজিসি-এর গতি ছিল মাত্র ০.০৪৩ মেগাহার্টজ, যেখানে আধুনিক স্মার্টফোনের গতি প্রায় ৩.০ গিগাহার্টজ।
- র্যাম (RAM): এজিসি-এর র্যাম ছিল মাত্র ৪ কিলোবাইট, আর এখনকার স্মার্টফোনে থাকে ৮ গিগাবাইট বা তার বেশি।
- স্টোরেজ সক্ষমতা: এজিসি-এর স্টোরেজ ছিল মাত্র ৭২ কিলোবাইট, যেখানে আধুনিক স্মার্টফোনগুলোতে ২৫৬ গিগাবাইট থেকে ৫০০ গিগাবাইট বা তার বেশি স্টোরেজ থাকে।
দুটি প্রযুক্তির এই তুলনার মাধ্যমে বোঝা যায় যে, আধুনিক স্মার্টফোন অ্যাপোলো গাইডেন্স কম্পিউটারের চেয়ে গড়ে কয়েক লাখ গুণ দ্রুত এবং শক্তিশালী।
২. গণভোটের সময় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের সময় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব রয়েছে:
- বিএনপি: দলটি জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট চায়, যা আলাদা ব্যালটে অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি মনে করে, যেহেতু জনগণই সুপ্রিম, তাই এই পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।
- জামায়াতে ইসলামী: তারা জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চায়, যা নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসে হতে পারে।
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): এই দলটি জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট করার প্রস্তাব দিয়েছে।
৩. নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের অঞ্চলভিত্তিক বিজয়ীরা
নাসা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ হ্যাকাথন প্রতিযোগিতার বাংলাদেশ পর্বে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিজয়ী ও রানার্সআপ হওয়া দলগুলোর নাম নিচে উল্লেখ করা হলো:
- ঢাকা অঞ্চলে: চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ক্রোনজ, প্রথম রানার্সআপ অ্যাস্ট্রো-৪।
- বরিশাল অঞ্চলে: চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পোলারিস, প্রথম রানার্সআপ সিরিয়াস।
- চট্টগ্রাম অঞ্চলে: চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এক্সোভিশনারিস, প্রথম রানার্সআপ কুয়েট মঙ্গলচারী।
- কুমিল্লা অঞ্চলে: চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নো ম্যাডস, প্রথম রানার্সআপ কুয়েন্টিসেন্স মাইনাস ইনফিনিটি।
- খুলনা অঞ্চলে: চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ওয়াসিস, প্রথম রানার্সআপ অ্যাটলাস।
- ময়মনসিংহ অঞ্চলে: চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নিউ বাইস, প্রথম রানার্সআপ সফট স্যাসি।
- রংপুর অঞ্চলে: চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফাঁকিবাজ, প্রথম রানার্সআপ স্পেস স্কোয়াড।
- রাজশাহী অঞ্চলে: চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাইনাস ওয়ান, প্রথম রানার্সআপ অরা।
- সিলেট অঞ্চলে: চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কোড ক্রাকার্স, প্রথম রানার্সআপ এআইবিএ স্পেস ওয়েভ।
বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের সাফল্য
নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও একাধিকবার সাফল্য দেখিয়েছে:
- ২০১৮ সাল: ‘বেস্ট ইউজ অব ডেটা’ বিভাগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘অলীক’।
- ২০২১ সাল: ‘বেস্ট মিশন কনসেপ্ট’ বিভাগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় কুয়েট এবং বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির সমন্বয়ে গঠিত দল ‘মহাকাশ’।
- ২০২২ সাল: ‘মোস্ট ইন্সপিরেশনাল’ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দল ‘ডায়মন্ডস’।
- ২০২৩ সাল: ‘বেস্ট স্টোরিটেলিং’ বিভাগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দল ‘ভয়েজার্স’।
