ক্যানটিনে আবরার ফাহাদের লাশ দেখে আঁতকে উঠেছিলেন প্রতিবেদক
আসিফ হাওলাদার, ঢাকা।

আবরার ফাহাদফাইল ছবি।
২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে তাঁর আবাসিক হলে ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) নেতা-কর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করেছিলেন। আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ষষ্ঠ বার্ষিকীতে সেই ভয়াবহ রাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন আসিফ হাওলাদার, যিনি তখন প্রথম আলোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
খবর পাওয়া এবং শেরেবাংলা হলে পৌঁছানো
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে নিয়মিত আড্ডা শেষে আসিফ হাওলাদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলে এক সিনিয়রের কক্ষে ছিলেন। রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে তাঁর এক সহপাঠী (ছাত্রলীগ নেতা) ফোন করে জানান, বুয়েটের শেরেবাংলা হলে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
আসিফ হাওলাদার জানান, বুয়েটে মূলধারার গণমাধ্যমের প্রতিনিধি না থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদকেরাই বুয়েটের সংবাদ সংগ্রহের কাজটি করতেন। খবর শুনে তিনি আঁতকে ওঠেন এবং এফ রহমান হল থেকে বেরিয়ে অল্প দূরত্বে থাকা বুয়েটের শেরেবাংলা হলের উদ্দেশে রওনা হন।
তিনিই সম্ভবত সেখানে পৌঁছানো প্রথম গণমাধ্যমকর্মী ছিলেন। হলের ফটক ভেতর থেকে আটকানো ছিল। ভেতরে শিক্ষার্থীদের কথাবার্তার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে একে একে পুলিশ সদস্যরা হলের সামনে আসেন।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন।
ক্যানটিনে নিথর দেহ ও মারধরের চিহ্ন
পুলিশ শেরেবাংলা হলে প্রবেশের প্রায় একই সঙ্গে আসিফ হাওলাদারও অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে হলে ঢোকেন। নিরাপত্তারক্ষীদের জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন, এক শিক্ষার্থীর মরদেহ হলের ক্যানটিনে রাখা হয়েছে।
তিনি বর্ণনা করেন, ক্যানটিনে গিয়ে ট্রাউজার ও শার্ট পরা আবরার ফাহাদের লাশ দেখে তিনি আঁতকে ওঠেন। তাঁর নিথর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারধরের চিহ্নগুলো তখনও দৃশ্যমান ছিল।
পাশে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই শিক্ষার্থী স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বলেন যে তাঁর কক্ষের আশপাশে কিছু ঘটেনি, তিনি কোনো শব্দ পাননি। অথচ পরে জানা যায়, তিনি নিজেও আবরারকে পেটানোর ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ
আশপাশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদক জানতে পারেন, রাত আটটার (৬ অক্টোবর) দিকে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদসহ সাত–আটজন শিক্ষার্থীকে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে পাঠানো হয়। তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাত–আটজন নেতা সেখানে আবরার ফাহাদের মুঠোফোন চেক করে ছাত্রশিবির-সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ খোঁজেন।
একপর্যায়ে তাঁরা ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে আবরার ফাহাদকে পেটাতে শুরু করেন। পরে চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীও ওই কক্ষে গিয়ে আবরার ফাহাদকে আরেক দফায় পেটান। এতে তাঁর মৃত্যু হলে রাতে সহপাঠীদের ডেকে লাশ হলের সিঁড়ির নিচে রাখতে বলা হয়।
