১৪ দিনে ভারতে ২০ কোটি টাকার ইলিশ রপ্তানি: এক দশকে সর্বনিম্ন

মাসুদ মিলাদ, চট্টগ্রাম।

মা ইলিশ রক্ষার জন্য আগামীকাল ৪ অক্টোবর থেকে ইলিশ মাছ ধরা ও বেচাকেনা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শেষ মুহূর্তে পাইকারি বাজারে কেনাবেচা চলছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় বিক্রিও কম বলে জানান বিক্রেতারা। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২২০০ টাকার ওপরে। গতকাল সকাল সাড়ে সাতটায় ঢাকার কারওয়ান বাজার মাছের আড়তেছবি: জাহিদুল করিম

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার এবার ১২ লাখ কেজি ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে, যার মেয়াদ রয়েছে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার পর্যন্ত ভারতে মোট এক লাখ ৩০ হাজার কেজি ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। এই পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১৬ লাখ ৩৭ হাজার ডলার বা প্রায় ২০ কোটি টাকা

​এ বছর ৩৭টি প্রতিষ্ঠানকে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও, সোমবার পর্যন্ত মাত্র ১৬টি প্রতিষ্ঠান ইলিশ রপ্তানি করেছে। ইলিশ রপ্তানি হয়েছে মূলত বেনাপোল ও আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে।

​এক দশকে সর্বনিম্ন রপ্তানি

​এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, এবারই ভারতে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম পরিমাণে ইলিশ রপ্তানি হচ্ছে।

১. ভারতে ইলিশ রপ্তানির তুলনামূলক চিত্র

​জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ইলিশ রপ্তানির পরিমাণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে ওঠানামা করেছে:

  • ২০২০-২১ অর্থবছর (সর্বোচ্চ রপ্তানি): এই বছর ১৭ লাখ কেজি ইলিশ রপ্তানি করা হয়, যার মাধ্যমে ১৩৯ কোটি টাকা আয় হয়।
  • ২০২৩-২৪ অর্থবছর (অনুমতি): এই অর্থবছরে ২৪ লাখ কেজি ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
  • বাস্তবে রপ্তানি (গত বছর): অনুমতির তুলনায় বাস্তবে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৪৪ হাজার কেজি ইলিশ, যা অনুমোদিত পরিমাণের মাত্র ২৩ শতাংশ।
  • বাস্তবে রপ্তানি (চলতি বছর): এই বছর অনুমতির মাত্র ১১ শতাংশ ইলিশ রপ্তানি হয়েছে।

২. আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তিনটি কনভেনশন

​বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি আইএলওর যে তিনটি কনভেনশন অনুসমর্থন করতে যাচ্ছে, সেগুলোর বিবরণ ও গুরুত্ব নিচে দেওয়া হলো:

  • কনভেনশন নম্বর ১৫৫: পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা (OS&H)
    • গুরুত্ব: এটি অনুসমর্থন হলে প্রতিটি সদস্যরাষ্ট্র জাতীয় পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নে বাধ্য হয় এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়োগকর্তাদের দায়িত্ব নিতে হয়।
  • কনভেনশন নম্বর ১৮৭: কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার মান উন্নয়নে প্রচারণামূলক কাঠামো (OS&H)
    • গুরুত্ব: এর মূল উদ্দেশ্য হলো সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে কর্মক্ষেত্রে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ক্রমাগত উন্নতিতে সহায়তা করা।
  • কনভেনশন নম্বর ১৯০: কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধ
    • গুরুত্ব: এই কনভেনশনটি পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন শিল্প খাতে কর্মরত নারী শ্রমিকদের অপ্রত্যাশিত আচরণ ও হয়রানি থেকে মুক্ত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণ

​রপ্তানিকারকেরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে ইলিশের দাম সব সময় ওঠানামা করে। এবার স্থানীয় বাজারে দাম বেশি থাকায় অনুমতি পাওয়া পরিমাণের চেয়ে অনেক কম পরিমাণে ইলিশ রপ্তানি হয়েছে।

  • স্থানীয় দাম বেশি: চট্টগ্রামের প্যাসিফিক সি ফুডস-এর পরিচালক আবদুল মান্নান জানান, স্থানীয় বাজারে দাম না কমায় তারা মাত্র দেড় হাজার কেজি ইলিশ রপ্তানি করেছেন, যেখানে তাদের অনুমোদন ছিল ৪০ হাজার কেজির।
  • মিয়ানমারের ইলিশ: আবদুল মান্নান আরও বলেন, ভারতের বাজারে বাংলাদেশের ইলিশের চেয়ে মিয়ানমারের ইলিশের রপ্তানিমূল্য কম, ফলে মিয়ানমারের ইলিশের বেচাকেনা বেশি হচ্ছে।

​ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত মিয়ানমার থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার কেজি ইলিশ আমদানি করেছে, যেখানে গড় আমদানিমূল্য ছিল ৬ ডলার ২৩ সেন্ট। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করেছে ৫ লাখ ৪২ হাজার কেজি, যার গড় আমদানিমূল্য ছিল ১০ ডলার ৯৩ সেন্ট

​ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য

​বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবার প্রতি কেজি ইলিশের জন্য ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য সাড়ে ১২ ডলার বা ১ হাজার ৫৩২ টাকা বেঁধে দিয়েছে। এনবিআরের তথ্যে দেখা গেছে, বেশিরভাগ চালানই এই ন্যূনতম মূল্যে রপ্তানি হয়েছে। মাত্র একটি চালান—ভোলার রাফিদ এন্টারপ্রাইজ থেকে ৪২০ কেজি ইলিশ প্রতি কেজি ১৩ ডলার ৬০ সেন্ট করে রপ্তানি করা হয়েছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *