জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫%: ৪ কারণে চাপে অর্থনীতি
বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা।

এডিবির লোগো।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পূর্বাভাস দিয়েছে যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হতে পারে। গত অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ছিল ৪ শতাংশ। আজ এডিবি তাদের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) সেপ্টেম্বর সংস্করণ প্রকাশ করে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রবৃদ্ধিতে চাপের ৪ কারণ
এডিবির প্রতিবেদন অনুসারে, তৈরি পোশাক রপ্তানি স্থিতিশীল থাকলেও চারটি প্রধান কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে:
১. রাজনৈতিক পরিবর্তন
২. ঘন ঘন বন্যা
৩. শিল্প খাতে শ্রমিক অস্থিরতা
৪. বিরাজমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি
প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি ও ঝুঁকি
এডিবি বলছে, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হবে ভোগব্যয়, যা শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের কারণে বাড়বে।
তবে বেশ কিছু ঝুঁকি প্রবৃদ্ধির অগ্রগতিতে বাধা হতে পারে:
- বিনিয়োগে মন্থরতা: সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতি এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক মনোভাব বিনিয়োগকে মন্থর করতে পারে।
- রপ্তানি খাতে চাপ: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রতিযোগিতা বাড়ায় রপ্তানি খাত এবং এর প্রবৃদ্ধি চাপ বাড়াবে।
- কাঠামোগত ঝুঁকি: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং নীতি বাস্তবায়নের অনাগ্রহ বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।
এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭ শতাংশ, যা গত অর্থবছরে বেড়ে ১০ শতাংশে দাঁড়ায়। এর পেছনে পাইকারি বাজারে সীমিত প্রতিযোগিতা, বাজার তথ্যের ঘাটতি, সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধা এবং টাকার অবমূল্যায়ন দায়ী।
এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা অব্যাহত থাকায় এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অপরিহার্য।
