বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী সরকারি কর্মকর্তা ড. ইমদাদুল হক তালুকদার

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

কেন্দুয়া

প্রকাশ:২৩ শে সেপ্টেম্বর ২০২৫ সময়:৪:৪৫

ছবি:সরকারি কর্মকর্তা ড. ইমদাদুল হক তালুকদার

৩৫তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা ড. ইমদাদুল হক তালুকদার বর্তমানে নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের মনোবিজ্ঞানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে সুপরিচিত। ড. ইমদাদুল হক ১৯৮৭ সালের ৪ আগস্ট (অফিসিয়ালি ১৯৮৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর) জামালপুর সদরের মোহনপুরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মো. শামছুল হক তালুকদার দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বাশচড়া এসবিজি মডার্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তাঁর মা মাহফুজা খাতুন ছিলেন খুপিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। শিক্ষাজীবনের শুরু হয় মায়ের কর্মস্থল সেই বিদ্যালয় থেকেই। মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন বাশচড়া এসবিজি মডার্ন উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা করেন ঢাকা স্টেট কলেজে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (মনোবিজ্ঞান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গমন করেন।

তিনি ফিনল্যান্ডের Åbo Akademi University থেকে উন্নয়নমূলক মনোবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন, যেখানে তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল “বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ”। এর পাশাপাশি তিনি সুইডেনের புகழ்பெற்ற Karolinska Institute থেকে হেলথ ইকনমিক্স, পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে মেডিক্যাল সায়েন্সে এমএসসি সম্পন্ন করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভাধর। বিতর্কে দক্ষতার পরিচয় দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি এবং এফএইচ হল ডিবেটিং সোসাইটিতে। সামাজিক কর্মকা-েও রেখেছেন সক্রিয় অংশগ্রহণ। স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচি, শর্টফিল্ম নির্মাণের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি, সংগীতচর্চা এবং লেখালেখির ক্ষেত্রেও সমানতালে রেখেছেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর। তিনি একসময় কালের কণ্ঠ ও আমাদের সময় পত্রিকায় নিয়মিত ফিচার লিখেছেন। এছাড়া বিচ্ছু ও ঘোড়ার ডিম এর মতো রম্য ট্যাবলয়েডে লেখক হিসেবে ছিলেন সক্রিয়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-
পরানপোড়া ছাই (কবিতা, ঐতিহ্য প্রকাশনী)
শাখের করাত (রম্যরচনা)
ভাব তরঙ্গ (সম্পাদিত গ্রন্থ, সাধক জালাল উদ্দিন খাঁ সম্পর্কিত)
এছাড়াও তিনি কবিতা, ছোটগল্প, উপসম্পাদকীয় ও কলাম লেখায় ছিলেন নিয়মিত। তাঁর সংগীত প্রতিভাও সমানভাবে সমাদৃত। কণ্ঠসঙ্গীতে দক্ষ এই কর্মকর্তা টেলিভিশন ও মঞ্চেও পরিবেশন করেছেন গান।

​তিনি ২০১৬ সালে ‘ইয়ং ইনভেস্টিগেটর অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থিত নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর রিসার্চ অন অ্যাগ্রেশন (ISRA) সম্মেলনে তাকে বিশ্বের সেরা দশজন তরুণ গবেষকের একজন হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বর্তমানে তিনি ISRA-এর একজন আন্তর্জাতিক ফেলো সদস্য। ড. ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন,“আমি মূলত মানসিক জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করি। জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে আমিই প্রথম জুলাই যোদ্ধাদের মানসিক ট্রমা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে কাজ শুরু করি, যা এখনও চলমান। এছাড়াও ডিমেনশিয়া কেয়ার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সঙ্গে হেলথ পলিসি এডভোকেসি করে যাচ্ছি। আমার লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যকে রাষ্ট্রের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং এ সংক্রান্ত ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করে সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা। পাশাপাশি দীর্ঘ এক যুগ ধরে আমি এ বিষয়ে একাডেমিক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমার লক্ষ্য বাংলাদেশকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য মানসিক জনস্বাস্থ্য গবেষণা ও নীতিমালার ক্ষেত্রে একটি রোল মডেল হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করা।

”ড. ইমদাদুল হক তালুকদার স্বোপার্জিতা হক তালুকদার অধরা নামের এক কন্যা সন্তানের জনক। পারিবারিক ও কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি সামাজিক কর্মকা-েও সক্রিয়। কেন্দুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি পৌর প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। উন্নয়ন, প্রশাসন, জনসেবা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ সর্বক্ষেত্রে তিনি দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিচ্ছেন। শিক্ষা, গবেষণা, লেখালেখি, সংগীত ও প্রশাসনিক দায়িত্ব— প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমান দক্ষতার ছাপ রেখে চলেছেন এই বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী কর্মকর্তা। তাঁর নীতিবোধ, মানবিকতা এবং বহুমুখী প্রতিভা সমাজে একটি দৃষ্টান্ত।আমরা ড. ইমদাদুল হক তালুকদারের উত্তরোত্তর সফলতা ও সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করি।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *