ডাকসু নির্বাচনে ১১ অনিয়মের অভিযোগ, প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৫: ৩২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের সংবাদ সম্মেলন। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে।ছবি: 

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ১১টি অনিয়মের অভিযোগ দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব, নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে অধিকাংশ পোলিং অফিসারের ন্যূনতম ধারণা না থাকা, ভোটারদের নির্দিষ্ট প্যানেলের পক্ষে ভোট দেওয়া ব্যালট পেপার সরবরাহ, ব্যালট পেপারে ক্রমিক নম্বর না থাকা, এবং ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় ত্রুটি।

​আজ সোমবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলো তুলে ধরা হয়।

​উল্লেখ্য, ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ভিপি-জিএস-এজিএসসহ ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতেই জিতেছে। ডাকসুর কোনো পদে জিততে পারেনি ছাত্রদল।

ছাত্রদলের ভিপি-জিএস প্রার্থীর বক্তব্য

​ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামীম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে একটি বিশেষ মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে তাদের শিক্ষার্থীদের সামনে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ডাকসুর তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তারা নানা অনিয়ম দেখেছেন।

​ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশাসন নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই।

ছাত্রদলের উত্থাপিত ১১টি অভিযোগ (কিছু উদাহরণ)

​সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের পক্ষ থেকে যে ১১টি অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি হলো:

  • ১. ভোটারকে নির্দিষ্ট প্যানেলের পক্ষে ভোট দেওয়া ব্যালট পেপার সরবরাহ, ভোটার উপস্থিত হওয়ার আগেই ভোটার তালিকায় উপস্থিতির স্বাক্ষর দিয়ে দেওয়াসহ নানা জালিয়াতির সংবাদ নির্বাচন চলাকালে গণমাধ্যমে এসেছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ও ভোট প্রদানের হারে অসামঞ্জস্যতা দেখা যায়।
  • ২. নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে অধিকাংশ পোলিং অফিসারের ন্যূনতম ধারণা ছিল না, যা নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
  • ৩. অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা ভোটকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর আবেদন করেন। কিন্তু প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে কালক্ষেপণ করছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *