লন্ডনে বাংলাদেশি মাকে ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য: প্রতিবাদ করায় ছেলের ওপর হামলা: সাইদুল ইসলাম

ইখতিয়ার মৃধাছবি: সংগৃহীত

লন্ডন থেকে

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯: ৪২

​লন্ডনে হামলার শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশি তরুণ। তাঁর ভাষ্যমতে, হিজাব পরা মাকে উদ্দেশ করে এক ব্যক্তি ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য করেন। প্রতিবাদ করার কারণেই তিনি হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় পুলিশ জড়িত সন্দেহে শ্বেতাঙ্গ বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে।

হামলার বিস্তারিত

​ঘটনাটি ঘটে গত ১০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায়। লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর এলাকার আশফোর্ডের চার্চ রোডে এই হামলা হয়। আহত তরুণের নাম ইখতিয়ার মৃধা (২১)। ইখতিয়ারের ভাষ্যমতে, সেদিন তিনি মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে পূর্ব লন্ডনের বাসায় ফিরছিলেন। পথে ছোট ভাইয়ের জন্য খাবার কিনতে একটি দোকানের সামনে গাড়ি পার্ক করেন। তখন তার মা নাহিদা আক্তার গাড়ি থেকে নামেন। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক ৪০ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি নাহিদাকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্য করেন।

এর ফলে ইখতিয়ার প্রতিবাদ করেন এবং ওই ব্যক্তিকে তার মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে বলেন। কিন্তু তখন ওই ব্যক্তি তার গাড়ি থেকে একটি ব্যাট এনে ইখতিয়ারের মাথায় আঘাত করেন। এই হামলায় ওই শ্বেতাঙ্গ লোকটির বাবাও অংশ নেন। গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় নাহিদা হামলাকারীদের বাধা দিলে তারা তার ওপর গাড়ি তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। অবশ্যই, ইখতিয়ার দ্রুত তার মাকে টান দিয়ে সরিয়ে নেন এবং হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পুলিশি পদক্ষেপ ও আইনি ব্যবস্থা

​পরে জরুরি নম্বরে কল দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। ইখতিয়ার জানান, অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মাকে সেন্ট জর্জ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তার মাথায় পাঁচটি সেলাই দেন। এক দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর নাহিদা আক্তার বাসায় ফেরেন।

​এদিকে, পুলিশ হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় আদালত আগামী ১৩ অক্টোবর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

হামলার শিকার তরুণের পরিচয়

​ইখতিয়ার মৃধা লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পাশাপাশি তিনি একটি খণ্ডকালীন চাকরিও করেন। তার পরিবার ২০১৬ সালে ইতালি থেকে লন্ডনে অভিবাসী হয়। ইখতিয়ারের বাবার নাম দুলাল মৃধা। তাদের গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলায়।

​যুক্তরাজ্যের মেট্রোপলিটন পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের লিঙ্ক হলো:

​[সন্দেহজনক লিঙ্ক সরানো হয়েছে]

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *