নরসিংদীতে মাদকাসক্ত ছেলের অতিষ্ঠতায় বাবাই ঘাতক! হাত-পা বেঁধে ধারালো অস্ত্রে হত্যা

​সাদ্দাম উদ্দিন রাজ, নরসিংদী

নরসিংদীর রায়পুরায় মাদকাসক্ত ছেলের অব্যাহত অত্যাচার ও মারধরে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে হাত-পা বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বাবা অলিউর রহমান ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।

​আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর মধ্যপাড়া গ্রামে এ নির্মম ঘটনা ঘটে।

​মালয়েশিয়া ফেরত তারেক ও মাদকের থাবা

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত তারেক (২৮) পূর্বে মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। তবে সেখানে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার কারণে তাকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দেশে ফেরার পর তিনি পুনরায় মাদকের সঙ্গে মারাত্মকভাবে জড়িয়ে পড়েন। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই নিজের জন্মদাতা বাবা-মাকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

​গত বুধবার রাতেও মাদকের টাকার দাবিতে তারেক নিজ বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং বাবা-মাকে মারধর করেন।

​গোয়ালঘরে হাত-পা বেঁধে হত্যা

​একপর্যায়ে রাতভর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাবা অলিউর রহমান ও পরিবারের অন্য সদস্যরা তারেককে কাবু করে হাত-পা বেঁধে ফেলেন। পরে তাকে বাড়ির পেছনের একটি গোয়ালঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বেদম মারধরের একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তারেকের মাথা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তারেকের মৃত্যু হয়।

​ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত পিতা অলিউর রহমান বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।

​আইনগত ব্যবস্থা ও পুলিশের বক্তব্য

​ঘটনার খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

​রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, “সংবাদ পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করেছি। নিহতের মাথার পেছনে ও ডান কানের নিচে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মাদকের টাকার জন্য পারিবারিক কলহের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পিতা পলাতক রয়েছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”