নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে নিউ ইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে এই উৎসবের মাঝেই লুকিয়ে আছে এক গভীর আবেগের গল্প। দীর্ঘ ত্রিশটি বছর পর প্রিয় নেতাকে বরণ করে নেওয়ার এই মাহেন্দ্রক্ষণে সুদূর প্রবাসের মাটিতে আবারও একত্রিত হয়েছেন ময়মনসিংহের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ—পরিচিত সেই ‘ত্রিরত্ন‘ মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন, আবু তারেক খান এবং আনোয়ার হোসেন মণ্ডল। তিন দশক পর একে অপরকে কাছে পেয়েছেন এই তিন সহযোদ্ধা। ঐতিহাসিক এই সফর উপলক্ষে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে উষ্ণ স্বাগতম জানিয়েছেন ময়মনসিংহ শহর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা মো: নাসির উদ্দিন।
আমেরিকার মাটিতে অনন্য দৃষ্টান্ত ও দীর্ঘ ত্রিশ বছর পর স্মৃতির মেলবন্ধন
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পোস্টার বা ব্যানার লাগানো স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর আইনি নিয়মকানুনের ভেতরে প্রবাসের বুকে দলীয় কর্মসূচির বর্ণিল পোস্টার ছাপানো এমনকি প্রকাশ্য স্থানে সাঁটিয়ে তুলে ধরা এক ভিন্নধর্মী সাহস ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। একজন নন-আমেরিকান হয়েও সব বিধিবিধান রক্ষা করে নিউ ইয়র্কের বুকেও আজ প্রিয় নেতার আগমনী বার্তা শোভা পাচ্ছে, যা প্রবাসী বাঙালিদের মাঝে এক অনন্য রোমাঞ্চ ও গর্বের জন্ম দিয়েছে।
আশির দশক (১৯৮০-এর দশক) থেকে দেশের রাজপথে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যে লড়াই তাঁরা করেছিলেন, দীর্ঘ তিন দশক পর আজ যেন সেই পুরনো দিনের স্মৃতিই আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে। এই তিন সহযোদ্ধার দীর্ঘ বিরতির পর এমন আবেগঘন মেলবন্ধন এবং প্রবাসের বুকেও নিজেদের শেকড় আর রাজনৈতিক সত্তাকে বুক আগলে ধরে রাখার দৃশ্য অন্য নেতা-কর্মীদের মাঝেও এক অদ্ভুত শিহরণ ও নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে দিয়েছে।

দেশপ্রেম ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন
সময়ের পরিক্রমায় ময়মনসিংহের সেই অকুতোভয় সন্তানরা আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি উন্নত ও সভ্য সমাজে বসবাস করছেন, কিন্তু মন পড়ে আছে সেই প্রিয় মাতৃভূমিতেই। “সময়ের পরিক্রমায় প্রবাস জীবনে তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। আবু তারেক খান আমেরিকায় একজন কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজস্ব খামার গড়ে তুলেছেন, যেখানে তাঁর অধীনে স্থানীয় আমেরিকানরাও কর্মরত রয়েছেন। আনোয়ার হোসেন মণ্ডল একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের (RMG) প্রসারে কাজ করে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন। অন্যদিকে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন প্রবাসের কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি সমাজসেবা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সক্রিয় রেখেছেন।” শরীরটা হাজার মাইল দূরে থাকলেও তাঁদের প্রতিটি রক্তকণিকায় আর হৃদয়ের স্পন্দনে আজও মিশে আছে কেবলই বাংলাদেশ।
উন্নত বিশ্বের এই আধুনিক সমাজব্যবস্থা, আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার দেখে তাঁদের দেশপ্রেমিক সত্তা প্রতিনিয়ত হু হু করে ওঠে, নিজ মাতৃভূমিকেও ঠিক এমন একটি সুন্দর দেশ হিসেবে দেখার এক তীব্র স্বপ্ন বোনে তারা।
আগামীর প্রত্যাশা ও দৃঢ় অঙ্গীকার
দীর্ঘ তিরিশটি বছরের দূরত্বের অবসান ঘটিয়ে, জীবনের নানা অভিজ্ঞতা আর প্রবাসের এই গভীর জীবনবোধ থেকে ময়মনসিংহের এই তিন নেতা আজ আবারও এক সুতোয় গাথা হয়েছেন। তারা এক সম্মিলিত ও দৃঢ় চিন্তায় উপনীত হয়েছেন—
বাংলাদেশকে একটি সত্যিকার অর্থে উন্নত, সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তারেক রহমানের নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।
”করবো কাজ, গড়বো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ”—দীর্ঘ তিন দশক পর এই মূলमंत्रকে বুকে ধারণ করে, আগামী দিনে দেশকে একটি ‘সিভিলাইজড নেশন’ বা সভ্য জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানোর যে স্বপ্ন তাঁরা দেখেন, তা বাস্তবায়নে প্রিয় নেতা তারেক রহমানের পাশে আমৃত্যু ছায়ার মতো থাকার এক দৃপ্ত শপথ নিয়েছেন পুরনো এই তিন সহযোদ্ধা।
তাঁদের হৃদয় নিংড়ানো প্রত্যাশা, তারেক রহমানের এই সফর শুধু প্রবাসীদেরই উজ্জীবিত করবে না, বরং আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন কোটি জনতা দেখছে, তার এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
