সরকারের মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ সাধন: ময়মনসিংহে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সর্বনিম্ন রিসোর্স (সম্পদ) ব্যবহার করে সর্বোচ্চ আউটপুট (ফলাফল) নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সাধন করা। আজ রবিবার (৭ জুন ২০২৬) ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি (SDG) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল এই মন্তব্য করেন।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন ‘সিগনেচার কর্মসূচী’র বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে এই সভার আয়োজন করা হয়।

অর্থনৈতিক অগ্রগতির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা তুলে ধরেন। ড. এস এম আব্দুল আওয়াল বলেন:

“শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচির অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতির আমূল উন্নয়ন করা। দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি, তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি), রেমিট্যান্সের দ্বিমুখী প্রবাহ এবং ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস-এর মতো অসংখ্য যুগান্তকারী সিগনেচার প্রোগ্রামের মাধ্যমে তিনি এ দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে গেছেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক দেশে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালু এবং বিনামূল্যে নারী শিক্ষা প্রসারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে।”

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ও বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার

মুখ্য সমন্বয়ক উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই জনবান্ধব অসংখ্য সিগনেচার প্রোগ্রামের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম হলো:

  • প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড বিতরণ।
  • দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি।
  • নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-এর পুনরুজ্জীবন এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে সিস্টেমের আধুনিকায়ন।
  • নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন।
  • স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন।

তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান দুই চালিকাশক্তি—তৈরি পোশাক রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের পাশাপাশি এখন কৃষিপণ্য, চামড়া ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকার সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে, যুবসমাজকে ডিজিটাল আসক্তি থেকে দূরে সরিয়ে স্কুল-কলেজগামী ছেলেমেয়েদের খেলাধুলায় মনোনিবেশ করাতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তৃণমূলের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক তৎপরতা

ড. আব্দুল আওয়াল বলেন, “তৃণমূল পর্যায়ের প্রকৃত অবস্থা ও মাঠচিত্র সরাসরি অবলোকন করার জন্যই আজকের এ আয়োজন। আমরা নীতি নির্ধারণের মৌলিক জায়গাগুলোতে সরাসরি কাজ করছি যাতে প্রতিটি কর্মসূচি জনবান্ধব হয়। তৃণমূল পর্যায়ে এই সিগনেচার প্রোগ্রামগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর স্বার্থে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।” ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তিনি সকল সরকারি কর্মকর্তাদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জন কেনেডি জাম্বিল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:

  • জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান।
  • পুলিশ সুপার মোঃ কামরুল হাসান।
  • বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মো: গোলাম মোস্তফা।

এছাড়াও সভায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত থেকে নিজ নিজ দপ্তরের সিগনেচার কর্মসূচির অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *