ময়মনসিংহে বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উদ্যাপন: খাদ্যে ভেজাল রোধে বিবেক জাগ্রত করার আহ্বান
রাশিদ আহমেদ নিসর্গ, ময়মনসিংহ

‘নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আস্থা নির্মাণে মেট্রোলজি’—এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহে বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। বুধবার (২০ মে ২০২৬) ময়মনসিংহ বিএসটিআই (BSTI) বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে নগরীর ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে এ দিবস উপলক্ষ্যে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী, এনডিসি।
ভোক্তা অধিকার রক্ষায় মেট্রোলজির ভূমিকা
আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক সঞ্জয় কুমার সরকার। তিনি তাঁর বক্তব্যে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট’ (বিএসটিআই) কর্তৃক প্রতি বছরের ২০ মে ‘বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস’ যথাযথ মর্যাদায় ও গুরুত্বের সাথে নিয়মিত পালন করা হয়ে থাকে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মেট্রোলজির মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের শিল্পায়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখা, জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সঠিক ও নির্ভরযোগ্য পরিমাপের ভূমিকা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা। একই সাথে মান প্রণয়ন, এর সঠিক বাস্তবায়ন এবং বাজারে সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিতকরণে বিএসটিআই-কে একটি যুগোপযোগী ও আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁরা নিরলস কাজ করছেন।
দিন শেষে আমরা সবাই ভেজাল খাচ্ছি: বিভাগীয় কমিশনার

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী খাদ্যে ভেজাল ও ওজনে কারচুপির বর্তমান চিত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান সময়ে খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকর ভেজাল মিশানো যেন নিত্যদিনের একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু অসৎ ব্যবসায়ীরা এটা একবারও চিন্তা করে না যে, সমাজে আমরা একজন আরেকজনের উৎপাদিত পণ্যই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ভোগ করছি। দিন শেষে আমিও কিন্তু সেই ভেজাল খাবারটিই খাচ্ছি, যেটা হয়তো আমি নিজে উৎপাদন করি না বা আমার পরিবার অন্য দোকান থেকে কিনছে।”
তিনি ওজনে কারচুপি ও ভেজাল কারবারিদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ বা জরিমানা করে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়। এর জন্য আমাদের আগে নিজেদের সচেতন হতে হবে। ব্যবসায়ীদের নিজেদের মূল্যবোধ এবং বিবেকবোধকে জাগ্রত ও কাজে লাগাতে হবে, তবেই একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিএসটিআই-এর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং ময়মনসিংহের গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
