খালিয়াজুড়িতে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা, থানায় মামলা

মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের পাঁচহাট গুচ্ছ গ্রামে এক গৃহবধূকে (২০) প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁকা ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মূল অভিযুক্ত যুবক ও তাকে সহায়তাকারী দুই নারীসহ তিনজনকে আসামি করে খালিয়াজুড়ি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, পাঁচহাট গ্রামের সরকার মিয়ার ছেলে মোঃ আশোক মিয়া (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে কলা-রুটির ব্যবসা করে আসছেন। অপরদিকে, একই গ্রামের বাসিন্দা নয়ন মিয়া ও তাঁর স্ত্রী সালমা আক্তার (২০) (ছদ্মনাম) ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। সম্প্রতি বোরো ধান কাটার মৌসুমে তাঁরা বাড়িতে আসেন এবং পাঁচহাট গুচ্ছ গ্রামের একটি ঘরে বসবাস শুরু করেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) দুপুরে নয়ন মিয়া স্ত্রীকে ঘরে রেখে কাজের উদ্দেশ্যে বাইরে যান। এই সুযোগে স্থানীয় স্বপ্না আক্তার ও সাবিহা আক্তার নামের দুই নারী ভুক্তভোগীকে ফুসলিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ফাঁকা ঘরে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিলেন আশোক মিয়া। ভুক্তভোগী ঘরে প্রবেশ করা মাত্রই ওই দুই নারী বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর আশোক মিয়া ভুক্তভোগীর পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানি করেন।

জনতার উদ্ধার ও অভিযুক্তের পলায়ন

নিরুপায় হয়ে ওই গৃহবধূ সজোরে চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত আশোক মিয়া ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।

থানায় মামলা ও পুলিশি পদক্ষেপ

ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার বিকেলেই ভুক্তভোগী নারী তাঁর স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে খালিয়াজুড়ি থানায় হাজির হন এবং তিনজনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

খালিয়াজুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাসির উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পর গত শুক্রবার (১৫ মে) পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলাটি চলমান রয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে এবং বিধি মোতাবেক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *