ময়মনসিংহে মন্দিরের নাম ভাঙিয়ে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ: প্রতিকার চেয়ে ডিসি-এসপিকে আবেদন
রাশেদ আহমেদ নিসর্গ, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী বলাশপুর আবাসন এলাকার ‘সার্বজনীন মহামায়া কালীমাতা শিব মন্দির’-এর নাম ভাঙিয়ে অনিয়ম, অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) সকালে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছে মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ।
অভিযোগের বিবরণ
লিখিত আবেদনে জানানো হয়, ২০১৫ সালে কেওয়াটখালী শ্মশান সংলগ্ন নদীর চরে ‘মহামায়া ভূমিহীন সমবায় সমিতি আবাসন’ ও তার অধীনে ‘সার্বজনীন মহামায়া কালীমাতা মন্দির’ স্থাপিত হয়। মন্দির কমিটির অভিযোগ, স্থানীয় শ্রী বাদল সরকার ও তার পুত্র শ্রী ঝোটন সরকার মন্দিরের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
আবেদনে উল্লিখিত প্রধান অভিযোগসমূহ: ১. অবৈধ দখল: মন্দিরের জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ ও যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে ধর্মীয় পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। ২. চাঁদাবাজি: মন্দিরের সাবমার্সিবল মোটর ব্যবহার করে সাধারণ বাসিন্দাদের কাছ থেকে মাসিক ১৫০-২০০ টাকা করে অবৈধভাবে আদায় করা হচ্ছে। ৩. বিদ্যুৎ চুরি: মন্দিরের জন্য বরাদ্দকৃত বিদ্যুৎ সংযোগ তিনটি পরিবার নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছে।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য
আবেদন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন মন্দিরের সভাপতি উত্তম দে এবং সাধারণ সম্পাদক অজয় সরকার। তারা জানান, মন্দির কমিটি থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা এককভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কমিটিকে তোয়াক্কা করছে না। ইতিপূর্বে বিদ্যুৎ বিভাগে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
দাবি ও হস্তক্ষেপ
মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অভিযোগসমূহ তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, মন্দিরের সম্পত্তি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
