মর্যাদাপূর্ণ ‘সৈয়দ শামসুল হক শিশুসাহিত্য পুরস্কার’ ও বঙ্গভাষা লেখক জাদুঘর: এক আলোকবর্তিকা

মোস্তাফিজার রহমান (জাহাঙ্গীর), ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের স্মৃতিধন্য জেলা কুড়িগ্রামের উত্তরের সীমান্ত উপজেলা ফুলবাড়ী থেকে ২০২১ সাল থেকে নিয়মিত প্রদান করা হচ্ছে ‘সৈয়দ শামসুল হক শিশুসাহিত্য পুরস্কার’। কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হকের অনুপ্রেরণায় এবং তৌহিদ-উল ইসলামের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই পুরস্কারটি এখন শিশুসাহিত্যের অঙ্গনে অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা হিসেবে স্বীকৃত।

পুরস্কারের ইতিহাস ও বিজয়ীবৃন্দ

২০২১ সালে পুরস্কারটির যাত্রা শুরু হয় এবং প্রথমবার শিশুসাহিত্যিক ফারুক নওয়াজ এটি গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন:

  • ২০২২: স.ম. শামসুল আলম (বই: ‘বহুরূপী দেবশিশু’)।
  • ২০২৩: যৌথভাবে রমজান মাহমুদ (‘থোকায় থোকায় স্বপ্ন জ্বলে’) এবং দিলরুবা নীলা (‘অলভী ও তার ভূতবন্ধু’)।
  • ২০২৪: যৌথভাবে নিলয় নন্দী (‘সবুজ মানুষ রহস্য’) এবং আখতারুল ইসলাম (‘অক্সিজেন’)।

বঙ্গভাষা লেখক জাদুঘর ও স্বপ্নদ্রষ্টা তৌহিদ-উল ইসলাম

এই পুরস্কারের প্রবর্তক তৌহিদ-উল ইসলাম পেশায় একজন সিনিয়র শিক্ষক এবং নিবেদিতপ্রাণ সাহিত্যকর্মী। ২০২২ সালে ‘আইপিডিসি-প্রথম আলো প্রিয় শিক্ষক’ সম্মাননা থেকে প্রাপ্ত ২ লক্ষ টাকায় তিনি নিজ গ্রাম উত্তর বড়ভিটায় প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘বঙ্গভাষা লেখক জাদুঘর’। এই জাদুঘরে বাংলা সাহিত্যের দুই শতাধিক প্রয়াত কবি-সাহিত্যিকের দুর্লভ ছবি ও তথ্য সংরক্ষিত আছে, যা বর্তমানে বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য সম্পদ।

২০২৫ ও ২০২৬ সালের জন্য বই আহ্বান

আগামী ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পুরস্কারের জন্য ইতোমধ্যেই পাণ্ডুলিপি বা বই আহ্বান করা হয়েছে:

  • জমার শেষ সময়: ৩০শে জুন।
  • শর্তাবলী: ১ম সংস্করণের বাংলা ভাষায় প্রকাশিত শিশুতোষ বই হতে হবে। ২০২৫ সালের জন্য ২০২৪ সালে প্রকাশিত এবং ২০২৬ সালের জন্য ২০২৫ সালে প্রকাশিত বই গ্রহণযোগ্য।
  • আবেদন প্রক্রিয়া: বঙ্গভাষা লেখক জাদুঘর, ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম বরাবরে ৫ কপি বই জমা দিতে হবে। উল্লেখ্য, একবার পুরস্কারপ্রাপ্তরা পুনরায় আবেদন করতে পারবেন না।

নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ফলাফল

পুরস্কারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বাংলা একাডেমি বা শিশু একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত তিনজন অভিজ্ঞ বিচারকের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ করা হয়। প্রতি বছর ৫ই নভেম্বর কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হকের জন্মদিনে বিজয়ী নাম ঘোষণা করা হয় এবং ২৭শে ডিসেম্বর সৈয়দ হকের জন্মদিনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *