কওমী মাদ্রাসা ছাত্রীর আত্মহত্যা: এলাকায় আতঙ্ক ও শোক
মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নে রাফিয়া আক্তার (১৩) নামে এক কওমী মাদ্রাসা ছাত্রীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) সকালে উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করে। আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
নিহত রাফিয়া জগন্নাথপুর গ্রামের প্রশিকা পাড়ার দিনমজুর আজিবুল মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মহিলা কওমী মাদ্রাসার ছাত্রী ছিল। পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাফিয়ার বাবা আজিবুল মিয়া, মা খোরশেদা আক্তার ও তাঁর বড় ভাই দিনমজুর হিসেবে অন্যের বাড়িতে কাজের জন্য সকালে ঘর থেকে বের হয়ে যান। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে রাফিয়া নিজ ঘরের বাঁশের ধন্নার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়।
রাফিয়ার বাবা জানান, গত কয়েকদিন ধরে সে মাদ্রাসায় যায়নি। তবে কী কারণে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশের তৎপরতা ও আইনি প্রক্রিয়া
খবর পেয়ে খালিয়াজুড়ি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মন্জুর রহমান নারী পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। খালিয়াজুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে যথাযথ পুলিশ পাহারায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছিল।
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া
একজন কিশোরী ছাত্রীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। নেত্রকোনা জেলা বিএনপি নেতা এরশাদুল আলম শাহীনসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।
ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে জগন্নাথপুর গ্রামের কবরস্থানে রাফিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়।
