উদ্বোধনী ফলকেই সীমাবদ্ধ ময়মনসিংহের দুই খালের খননকাজ, শুরু হয়নি কার্যক্রম
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ও গৌরীপুরে সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত দুটি খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হলেও বাস্তবে কাজ শুরু না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উদ্বোধনের পর এক মাসের বেশি সময় পার হলেও প্রকল্পের কার্যক্রম কেবল উদ্বোধনী ফলকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রকল্প ও বরাদ্দ সংক্রান্ত তথ্য
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ‘নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির আওতায় ৯টি উপজেলার ১১টি খাল খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫৫ কিলোমিটার খননে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা। তবে বাজেট বরাদ্দ না মেলায় মাঠ পর্যায়ের মূল খননকাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি।
গৌরীপুরের বলার বিল খাল: উদ্বোধনী ফলকই সম্বল
গত ১৬ মার্চ গৌরীপুরের বলার বিল খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ৫ দশমিক ৯ কিলোমিটার এই খালটি প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরেজমিনে গৌরীপুরের সিধলা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, শুধু একটি ফলকই দৃশ্যমান। মনাটি গ্রামের বাসিন্দা হযরত আলী (৬৫) বলেন, “উদ্বোধন করে গাছ লাগিয়ে গেছেন, কিন্তু খনন শুরু হয়নি। বর্ষায় আমাদের শত শত একর জমি তলিয়ে থাকে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলাল উদ্দিন জানান, খালের বেশির ভাগ জমি দখলে থাকায় সিএস রেকর্ড অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণের কাজ চলছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।
মুক্তাগাছার সিংড়া খাল: সীমানা খুঁটিতেই থমকে আছে কাজ

একইভাবে ১৬ মার্চ মুক্তাগাছার সিংড়া খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তথ্য ও প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ের এই প্রকল্পে কেবল সীমানা নির্ধারণ করে বাঁশ পুঁতে রাখা হয়েছে। স্থানীয় কৃষক নইম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, “খালটি সরু হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় প্রায় ৬০ একর জমিতে ফসল চাষ করা যায় না। আমরা দ্রুত খনন চাই।”
উপসহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, খালটি ২০-২৫ ফুট প্রস্থ ও ১০-১২ ফুট গভীর করে খনন করা হবে। এখানে কোনো অবৈধ দখলদার নেই, কেবল বরাদ্দের অপেক্ষা।
প্রশাসনের বক্তব্য
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বাজেট না পাওয়ায় মূল খননকাজ শুরু করা যায়নি। তবে সীমানা নির্ধারণ ও দখলমুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, “যেগুলোর খননকাজ উদ্বোধন করা হয়েছে, সেগুলোর বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে। এই খননকাজ ৫০ শতাংশ হাতে এবং ৫০ শতাংশ যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।”
