খালিয়াজুড়িতে ধান কাটা শুরু: শিলাবৃষ্টি ও আগাম বন্যার ভয়ে কৃষকেরা আতঙ্কিত
মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুড়িতে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে আগাম বন্যা ও শিলাবৃষ্টির ভয়ে এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাসকারী এই উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ৮৯টি হাওরে এ বছর ২০,২৩২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে।
জলাবদ্ধতায় আংশিক ক্ষতির শঙ্কা
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মেন্দিপুর, চাকুয়া, সদর, নগর, কৃষ্ণপুর ও গাজীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওরের প্রায় ২৮৬ হেক্টর জমিতে আংশিক ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া ইতিমধ্যে ৫ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হারভেস্টার মেশিনের সংকট ও সমাধান
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, পুরো উপজেলার ধান কাটার জন্য প্রায় ২০০টি হারভেস্টার মেশিনের প্রয়োজন। বর্তমানে ১২৬টি মেশিন কাজ করছে। বাকি মেশিনগুলো পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও খালিয়াজুড়িতে এবার বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে।
কৃষক ও স্থানীয় নেতাদের তৎপরতা
নূরপুর বোয়ালী গ্রামের কৃষক কায়েসুর রহমান এবং উপজেলা কৃষক দলের সেক্রেটারি পান্ডব সরকার জানান, নিচু জমিতে পানি জমে যাওয়ায় মেশিনে কাটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই অনেক কৃষক বুধবার (৮ এপ্রিল) থেকে নিজ উদ্যোগে হাতে ধান কাটা শুরু করেছেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গাজীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ স্বাধীন, জামায়াতের আমীর মোঃ ইসমাইল হোসেন এবং বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান তালুকদার কেষ্টু যৌথভাবে জানান, তাঁরা হারভেস্টার মেশিন সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছেন যাতে কৃষকেরা দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে পারেন।
প্রশাসনের প্রস্তুতি ও জ্বালানি সরবরাহ
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, “আগামী ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) আনুষ্ঠানিকভাবে বোরো ফসল কাটা শুরু হবে। নিচু জমির কৃষকেরা ইতিমধ্যে কাটা শুরু করেছেন।”
তিনি জ্বালানি তেলের বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেন, পার্শ্ববর্তী মদন ও ইটনা উপজেলার ইউএনওদের সাথে কথা হয়েছে। পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত ডিজেল মজুদ রাখা হবে এবং খালিয়াজুড়িতেও ডিলারদের মাধ্যমে পর্যাপ্ত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
