চীনে গবাদিপশুর নতুন ভাইরাস আতঙ্ক: ছড়াচ্ছে বাতাসের মাধ্যমে, মৃত্যুহার ৫০%
জাহিদ হাসান

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গবাদিপশুর পা ও মুখের রোগের (Foot and Mouth Disease) এক ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এসএটি-১ (SAT-1) নামক এই নতুন ও শক্তিশালী ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি জরুরিভিত্তিতে টিকা কার্যক্রম এবং গবাদিপশু নিধন অভিযান শুরু করেছে চীন সরকার।
সংক্রমণের ভয়াবহতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
চীনের কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত সপ্তাহে গানসু প্রদেশ এবং শিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ৬ হাজার ২২৯টি গবাদিপশুর মধ্যে এই সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ভাইরাসের বিস্তার রোধে ইতিমধ্যে আক্রান্ত পশু নিধন এবং সংক্রমিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক জীবাণুনাশক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, এই রোগটি বিদেশ থেকে অবৈধ পথে দেশে প্রবেশ করেছে।
টিকা ও নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, চীনে প্রথমবারের মতো ‘এসএটি-১’ সেরোটাইপ শনাক্ত হয়েছে। দেশটিতে প্রচলিত ‘ও’ এবং ‘এ’ সেরোটাইপের জন্য ব্যবহৃত সাধারণ টিকাগুলো এই নতুন ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকর নয়। ২০২৫ সাল থেকে এই ভাইরাসটি আফ্রিকা থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাসটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায় এবং অল্পবয়সী প্রাণীদের ক্ষেত্রে এর মৃত্যুহার ৫০ শতাংশের বেশি। এটি সরাসরি সংস্পর্শের পাশাপাশি বাতাসের মাধ্যমেও সংক্রমিত হতে পারে।
সীমান্তে সতর্কতা ও জরুরি পদক্ষেপ
গত সোমবার (৩০ মার্চ) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া এবং রাশিয়ার সীমান্ত দিয়ে এই প্রাদুর্ভাব ছড়াতে পারে। ফলে সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে টহল ও চোরাচালান রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে গত বুধবার (১ এপ্রিল) ঝংনং ওয়েইতে বায়োটেকনোলজি কোম্পানির তৈরি দুটি নতুন টিকার জরুরি অনুমোদন দিয়েছে চীনের ন্যাশনাল ভেটেরিনারি ড্রাগ ডাটাবেস। শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী এক মাসের মধ্যেই এই টিকা বাজারে আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞের সতর্কতা
শাংহাই ভিত্তিক জেসি ইন্টেলিজেন্স কোম্পানির বিশ্লেষক রোজা ওয়াং বলেন, “এই প্রাদুর্ভাব একটি বৃহৎ অঞ্চলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। এর প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম মোটেও সহজ নয়।”
