বিলের লোভে গেটে তালা! বেইলি রোড ট্র্যাজেডিতে সিআইডি’র প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

জাহিদ হাসান

প্রতিকী ছবি: জাহিদ হাসান

২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ৪৬ জন মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় সিআইডি’র চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে এক রোমহর্ষক সত্য। তদন্ত কর্মকর্তার মতে, শুধুমাত্র দোকানের ‘বিল’ আদায়ের জন্য কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়ায় এতগুলো মানুষ ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।

কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে?

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন ‘লিপ ইয়ার’ উপলক্ষে ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টে বিশেষ ছাড় থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে গ্রাহক সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। নিচতলার ‘চুমুক’ কফিশপে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত গ্রাহকরা বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক জেইন উদ্দিন জিসান নির্দেশ দেন গেটে তালা লাগিয়ে দিতে, যাতে কেউ বিল পরিশোধ না করে বেরিয়ে যেতে না পারেন।

মর্মান্তিক মৃত্যু ও প্রথম আলোর রহস্যময় ভূমিকা

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গেটটি খোলা থাকলে আটকা পড়া মানুষগুলো অনায়াসেই বেরিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু তালাবদ্ধ থাকায় ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে ৪৩ জন মানুষ মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করেন।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে তা রহস্যজনকভাবে সরিয়ে (ডিলিট) নেয়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রভাবশালী মহলের চাপ বা ‘টাকার খেলা’র কারণে এই সত্যটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

প্রাণের চেয়েও বড় হলো বিল?

স্রেফ কয়েক হাজার টাকার বিল আদায়ের লোভে ৪৬টি তাজা প্রাণ কেড়ে নেওয়ার এই ঘটনাটি অমানবিকতার এক চরম উদাহরণ। কাচ্চি ভাই কর্তৃপক্ষের কাছে মানুষের জীবনের চেয়ে টাকার দাম কি বেশি?—এমন প্রশ্ন এখন জনমনে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *