দেশের চাবি আপনার হাতে: গণভোট ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শাসনকাঠামো নির্ধারণে একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি ‘জুলাই সনদ’-এর সংস্কার প্রস্তাবনাগুলো জনগণের রায়ের জন্য পেশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংস্কারসমূহ
গণভোটের খসড়া অনুযায়ী, নাগরিকরা যদি ‘হ্যাঁ’ চিহ্নে ভোট প্রদান করেন, তবে সংবিধানে নিম্নোক্ত মৌলিক পরিবর্তনগুলো কার্যকর হবে:
- ক্ষমতার ভারসাম্য: প্রধানমন্ত্রী একটানা বা সব মিলিয়ে ১০ বছরের বেশি (দুই মেয়াদের বেশি) ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।
- দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: বর্তমানে এক কক্ষের পরিবর্তে সংসদে একটি উচ্চকক্ষ (Upper House) গঠিত হবে, যা মূলত ১০০ সদস্যের সমন্বয়ে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করবে।
- সংবিধান সংশোধন: কোনো সরকার এককভাবে সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক হবে।
- বিরোধী দলের ক্ষমতায়ন: সংসদীয় গণতন্ত্র মজবুত করতে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব বিরোধী দলের হাতে ন্যস্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।
- প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা: তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও পিএসসি গঠনে সরকারি ও বিরোধী দল যৌথভাবে কাজ করবে। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ‘জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিশন’ গঠন করা হবে।
- মৌলিক অধিকারের সম্প্রসারণ: নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাড়ানো হবে, যার মধ্যে অবাধ ইন্টারনেট সেবা প্রাপ্তির অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হবে।
- রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা: দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি একক সিদ্ধান্তে ক্ষমা করতে পারবেন না এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা হবে।
‘না’ ভোটের অবস্থান
প্রস্তাবনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গণভোটে যদি ‘না’ ভোট জয়যুক্ত হয়, তবে ‘জুলাই সনদ’-এর এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো কার্যকর হবে না। সেক্ষেত্রে দেশ বর্তমান সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতেই পরিচালিত হবে এবং বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো এই সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে না।
প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও প্রচারণা
নির্বাচন কমিশন ও মাঠ প্রশাসন ইতিমধ্যে এই দ্বিমুখী ভোটের (সংসদ সদস্য ও গণভোট) জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নোয়াখালীসহ দেশব্যাপী সাধারণ ভোটারদের সচেতন করতে উঠান বৈঠক, সেমিনার ও ডিজিটাল প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে। জনগণের প্রতি প্রশাসনের আহ্বান—আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে বিবেক জাগ্রত করে সঠিক রায় প্রদান করুন।
