১৮ বছরের ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের মোবাইল গেম আসক্তি: ১ বছরের কারাদণ্ডের বিধান চেয়ে সরকারের প্রতি প্রতিবেদন

শেখ মেহেদী হাসান নাদিম

বর্তমান বাংলাদেশে প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে মোবাইল গেমের নীল নেশা মহামারি আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ১৮ বছরের ঊর্ধ্ব প্রাপ্তবয়স্ক ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখন দিন-রাত মোবাইল স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকছে। এই আসক্তি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং জাতীয় উৎপাদনশীলতা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য এক বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এই আসক্তি রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ, বিশেষ করে ১ বছরের কারাদণ্ডের বিধান নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে।

আসক্তির ভয়াবহ চিত্র ও জাতীয় ক্ষতি

১৮ বছর বয়স মানেই একজন নাগরিক ভোটার এবং দেশের কর্মক্ষম জনশক্তির অংশ। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি পাবলিক ট্রান্সপোর্টেও যুবসমাজ ও প্রাপ্তবয়স্করা দীর্ঘ সময় PUBG, Free Fire বা এ জাতীয় গেম খেলে সময় নষ্ট করছেন। এতে করে:

  • শ্রমঘণ্টা অপচয়: দেশের কয়েক কোটি কর্মঘণ্টা প্রতিদিন গেমের পেছনে ব্যয় হচ্ছে।
  • অর্থনৈতিক ক্ষতি: ইন-গেম পারচেজ বা ডলারে ভার্চুয়াল কয়েন কেনার মাধ্যমে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হচ্ছে।

পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে গেম আসক্তির ফলে পারিবারিক কলহ এবং বিবাহবিচ্ছেদের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। স্বামী বা বাবার দায়িত্ব পালন না করে গেমের নেশায় মগ্ন থাকায় পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়ে পড়ছে। এছাড়া মেজাজ খিটখিটে হওয়া, অনিদ্রা এবং দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্নতা তাদের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।

কঠোর আইনি ব্যবস্থার প্রস্তাব

কেবল সচেতনতা দিয়ে এই সর্বনাশা নেশা বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই সরকারের প্রতি নিম্নোক্ত দাবিগুলো উত্থাপন করা হচ্ছে:

  • কারাদণ্ডের বিধান: ১৮ বছরের ঊর্ধ্ব কোনো ব্যক্তিকে মোবাইল গেমে আসক্ত অবস্থায় বা জনসমক্ষে গেম খেলতে দেখা গেলে তাকে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড এবং দৃষ্টান্তমূলক অর্থদণ্ডের আইনি কাঠামো তৈরি করা।
  • সার্ভার ব্লক: ক্ষতিকর গেমগুলোর সার্ভার বিটিআরসি (BTRC) এর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা।
  • আইন প্রয়োগ: ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে গেমারদের আইনের আওতায় আনা।

একটি উন্নত ও সৃজনশীল বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের কর্মক্ষম জনশক্তিকে সুস্থ ও দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত রাখতে হবে। মোবাইল গেমের এই ভয়ংকর নেশা থেকে নাগরিকদের রক্ষা করতে সময়োপযোগী ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, আমরা একটি মেধাহীন ও অকেজো প্রজন্মের দিকে ধাবিত হব।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *