স্টাফ রিপোর্টার

শেরপুরে ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারি ও পাচারের অভিযোগে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করার ঘটনায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিন কর্তৃক তাঁকে টেলিফোনে ধমক দেওয়ার অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জেলা প্রশাসক।
দৈনিক জাহান-এর সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, কৃষি কর্মকর্তা তাঁর দায়িত্বের সময় সেই সংকট মোকাবিলা না করে বদলির ঠিক আগমুহূর্তে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলা করেছেন।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, তিনি গত বছরের ২৭ এপ্রিল শেরপুর জেলায় যোগদান করেন। অথচ কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন মামলাটি করেছেন চলতি বছরের ৮ জুলাই, যা মূলত গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের সারের সংকটের বিষয় নিয়ে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সে সময় দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও কৃষি কর্মকর্তা কেন তখন ক্রাইসিস মিটআপ না করে এখন এই মামলা করতে গেলেন।
কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের পাল্টা অভিযোগ
জেলা প্রশাসক আরও অভিযোগ করেন, মামলা হওয়ার পর ডিলারদের একটি পক্ষ তাঁর কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছে যে, ডিলারদের বৈধ রেজিস্টার ও দলিলপত্র জবরদস্তি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং এক ডিলারের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ফৌজদারি মামলা করার ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা নিয়মনীতি সঠিকভাবে মানা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাঠ প্রশাসনের শৃঙ্খলা ও প্রোপাগান্ডার দাবি
তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হয়ে নিয়মনীতি না মেনে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো সমন্বয় না করে এ ধরনের আকস্মিক পদক্ষেপ মাঠ প্রশাসনের শৃঙ্খলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বর্তমান সময়ে সারের কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, একটি কুচক্রীমহল অসৎ উদ্দেশ্যে পুরনো বিষয়গুলোকে সামনে এনে তাঁর ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।