মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফল ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে রংপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসানকে শাসিয়েছেন রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা। আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভোট পুনরায় গণনার দাবিতে ডিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ডিসিকে আঙুল উঁচিয়ে শাসালেন এমদাদুল ভরসা
দুপুর ২টার দিকে রংপুর-৩, ৪ ও ৬ আসনের পরাজিত বিএনপি প্রার্থীরা নেতাকর্মীদের নিয়ে ডিসি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এসময় এমদাদুল হক ভরসা ডিসিকে উদ্দেশ্য করে দুই আঙুল উঁচিয়ে বলেন, “আপনি আমাদের টাইম ফ্রেম বলেন। অনিয়ম করার সময় তো সিস্টেম দেখেননি, এখন কেন সিস্টেম দেখাচ্ছেন?” তিনি আরও ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “আমার বউ-বাচ্চার চোখের পানির বিচার আল্লাহ করবেন। আপনার পরিবার ও সন্তানরাও একদিন রাস্তায় নামবে।”
স্লোগানে উত্তাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়
দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত ডিসি অফিস প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এসময় তারা ‘ভোট চোর’ আখ্যা দিয়ে ডিসি, এসপি এবং জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উস্কানিমূলক স্লোগান দেন। এমনকি ডিসির কক্ষের ভেতরেই ‘ডিসির দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’ স্লোগান দিতে দেখা যায় উত্তেজিত কর্মীদের। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ও মহানগর আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু একপর্যায়ে এমদাদুল ভরসাকে সরিয়ে নেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার আইনি ব্যাখ্যা ও কঠোর বার্তা
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, “বিএনপি প্রার্থীদের পুনরায় ভোট গণনার আবেদন আমরা গ্রহণ করেছি এবং তা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। তবে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পর আদালতের আদেশ ছাড়া ভোট পুনঃগণনার ক্ষমতা আমার নেই।” ডিসির কক্ষে অশোভন আচরণ ও ‘মব’ তৈরির চেষ্টার বিষয়ে তিনি বলেন, সিআরপিসি ধারা অনুযায়ী এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, রংপুরে ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে এবং অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা বিতর্কিত করার কোনো সুযোগ নেই।
