স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ শহরের কোতোয়ালী মডেল থানা এলাকায় ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা ধামাচাপা দিতে না পেরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল গভীর চক্রান্তে মেতে উঠেছে। ঘটনাটিকে তথাকথিত ‘আপস-মীমাংসা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায়, আইনি দায়িত্ব পালনকারী সৎ পুলিশ কর্মকর্তাকেই কোণঠাসা করার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিবরণ ও আইনি ভিত্তি
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৩টায় কোতোয়ালী মডেল থানাধীন অষ্টধার (ভিটাপাড়া) এলাকায় নিজ বাড়ির ছাদে শাশুড়ির শুকানো শুটকি আনতে যায় ৯ বছরের শিশুটি। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবেশী মো. শফিকুল ইসলাম শফিক (৬৫), পিতা: মৃত ইনু মিয়া, শিশুটিকে জোরপূর্বক টেনে নিজ নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে।
ধর্ষণের পর অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম ঘটনাটি কাউকে জানালে শিশুটির বাবা-মাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়। ভীতি ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে শিশুটি প্রথমে মুখ না খুললেও পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি পরিবার জানতে পারে।
পরবর্তীতে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগীর মা মোছাঃ শাকিলা খাতুন বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৮১, তারিখ: ১৮/১০/২০২৬)। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত/২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় (ধর্ষণের অপরাধ) রুজু করা হয়।
আইন লঙ্ঘন করে ‘আপস-মীমাংসা’র অপচেষ্টা
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে ভুক্তভোগী শিশুর দাদিসহ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি থানায় না জানিয়ে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই স্থানীয়ভাবে ‘আপস-মীমাংসা’ করার চেষ্টা চালায়। তারা ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে থানায় গিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে।
তবে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৩০ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ৩৪৫ ধারা অনুসারে ‘ধর্ষণ’ একটি নন-কম্পাউন্ডেবল (Non-compoundable) বা সম্পূর্ণ অ-আপসযোগ্য ও জামিনঅযোগ্য গুরুতর অপরাধ। এতে কোনো প্রকার আপস বা স্থানীয় মীমাংসার আইনগত সুযোগ নেই।
পুলিশ কর্মকর্তার আইনি অবস্থান ও চক্রান্ত
অভিযোগের খবর পেয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ইন্সপেক্টর আজিজুল হক বিষয়টি অবগত হওয়ার সাথে সাথে কোনো প্রলোভন বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে কঠোর আইনি অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “শিশু ধর্ষণের মতো নন-কম্পাউন্ডেবল অপরাধে আপসের কোনো সুযোগ নেই, ভুক্তভোগী পরিবার মামলা না করলেও রাষ্ট্র নিজে বাদী হয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবে।”
ইন্সপেক্টর আজিজুল হকের এই আপসহীন ভূমিকার কারণেই শেষ পর্যন্ত শিশুটির মা বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করতে পারেন এবং আসামির বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি কার্যক্রম শুরু হয়।
কিন্তু এই বেআইনি আপসের চেষ্টা নস্যাৎ হয়ে যাওয়ায় সংক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে আসামিপক্ষ ও মধ্যস্থতাকারী মহলটি। পরবর্তীতে তারা উক্ত পুলিশ অফিসারকে কোণঠাসা করতে এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে ঘোরাতে নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ ও মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে তাঁকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
অপরাধীকে আড়াল করার আইনি পরিণতি
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ বিলোপ বা অপরাধীকে আইনি বিচার থেকে বাঁচাতে বা আড়াল করতে যে বা যারা মিথ্যা আপসের চেষ্টা চালায়, তারা দণ্ডবিধির (Penal Code) ২০১ ধারায় (সাক্ষ্যপ্রমাণ বিলোপ ও অপরাধীকে আড়াল করার চেষ্টা) সরাসরি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন।
জনস্বার্থে এবং বিচারে ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করতে এই স্পর্শকাতর ধর্ষণের মামলায় আসামির দ্রুত গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তদন্তকারী সৎ কর্মকর্তার সুরক্ষা বিধান করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।