ত্রিশালে মারধর, অপহরণ চেষ্টা ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা, পুলিশের তদন্ত অব্যাহত

​ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ত্রিশালে মো. সোহেল মিয়া (৩৫)-সহ ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মারধর, অপহরণের চেষ্টা ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে ত্রিশাল থানায় মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

আসামীদের পরিচয়

​মামলার প্রধান নামীয় আসামীরা হলেন—

১. মো. সোহেল মিঞা (৪৫), পিতা- শামাল উদ্দিন, সাং- চররামপুর, পোঃ চররামপুর বাজার, থানা- ত্রিশাল, জেলা- ময়মনসিংহ।

২. এসআই নবিন পারভেজ (বিপি নং- ৮৮১৭২০১২৬৭), থানা- ত্রিশাল, জেলা- ময়মনসিংহ।

৩. ফিরোজ মাহমুদ (সৌরভ), পিতা- কামাল উদ্দিন, সাং- চররামপুর, পোঃ চররামপুর বাজার, থানা- ত্রিশাল, জেলা- ময়মনসিংহ।

এছাড়াও মামলায় ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে।

​ঘটনার বিবরণ ও চাঁদা দাবি

​মামলার বাদী মো. নাজমুল হক (১৯), পিতা-জামাল উদ্দিন, সাং-বীররামপুর ভাটিপাড়া (পোস্ট-গফাঁকুড়ি বাজার), থানা-ত্রিশাল, অভিযোগ করেন যে, গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ত্রিশাল পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের দরিররামপুর বাসস্ট্যান্ড ওভার ব্রিজের নিচে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে এই ঘটনা ঘটে। আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে ও তার সাথে থাকা লোকজনকে মারধর করে, জোরপূর্বক খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা চালায় এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

​আদালতের নির্দেশ ও থানায় মামলা রুজু

​ঘটনার পর সংক্ষুব্ধ পক্ষ বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৩নং সিআর আমলী আদালত, ময়মনসিংহে নালিশি দরখাস্ত দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ নালিশি দরখাস্তটি এজাহার হিসেবে গণ্যে মামলা রুজু করেন (ত্রিশাল থানা মামলা নং-০৬, তারিখ: ০৫/১০/২০২৬ খ্রি., ধারা-৩৬৪/৩৮৫/৩০৭/৩৮৬/৩৮৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৫০৬(২)/৩৪ পেনাল কোড)।

​পুলিশের তদন্ত ও তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য

​বর্তমানে মামলাটির তদন্তভার ন্যস্ত রয়েছে ত্রিশাল থানার এসআই (নিঃ) হোসেন মো. গোলাম মোস্তফা-এর ওপর। তদন্তের অংশ হিসেবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মামলার বাদী ও উল্লেখিত সাক্ষীদের উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬০ ধারায় নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

​তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিজ্ঞ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।