ময়মনসিংহে তথ্য কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: প্রশংসায় ভাসছেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার

প্রধান অতিথির জন্য নির্ধারিত উঁচু চেয়ারে না বসা, তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণে শতভাগ সততা নিশ্চিতের নির্দেশ দান ও কমপ্লেক্সের ভেতরে সাংবাদিকদের জন্য স্থান লিজ হিসেবে রাখার প্রস্তাব উপস্থাপন করে সভায় উপস্থিত অতিথি ও শতাধিক সাংবাদিকের আন্তরিক প্রশংসা অর্জন করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

প্রতিমন্ত্রীর সাদামাটা অবস্থান ও সততার নির্দেশনা

ময়মনসিংহ ৯ (নান্দাইল) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইয়াসের খান শনিবার বিকেল চারটায় ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের শিকারীকান্দায় বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভিত্তিফলক উন্মোচন ও দোয়া শেষে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি। মঞ্চে তাঁর জন্য নির্ধারিত উঁচু চেয়ার সরিয়ে সকলের জন্য দেওয়া একই মাপের চেয়ারে আসন নেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় শুধু মঞ্চে উপবিষ্ট অতিথিদের জন্য নাশতাও তিনি গ্রহণ করেননি।

বক্তৃতায় তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে জনগণের কাছে গিয়েছিলাম। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। বিগত সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে হাতে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল কিন্তু কাজ হয়নি। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের কাজে দুর্নীতি স্পর্শ করতে পারবে না।

নির্ধারিত সময়ে গুণগত মান নিশ্চিতের তাগিদ

গুনাগুণ ঠিক রেখে সঠিকভাবে নির্ধারিত সময়ে তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে পরে খরচ বেড়ে যায়, ঠিকাদাররা বলেন- রডের দাম বেড়ে গেছে, সিমেন্টের দাম বেড়ে গেছে। সে কারণে নির্ধারিত সময়ে উৎকৃষ্ট মানের কাজ শেষ করতে হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ

গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন, আমরা জনগণের মাঝে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করবো। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে, থাকবে। কিন্তু মিস ইনফরমেশন, মিথ্যা বা বানোয়াট কিছু যেন সংবাদে রূপ না নেয়, আপনারা সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

পাশাপাশি তথ্য কমপ্লেক্স চালু হলে সাংবাদিকরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন জানিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বহু জায়গায় প্রেসক্লাবের ভগ্নদশা। তথ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে সাংবাদিকদের জন্য স্থান লিজ নেওয়ার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে।

দেশব্যাপী তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা

দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪টি তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান বলেন, বিভাগীয় শহরসহ ২৬টি জেলার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এটা আমার প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আরো চারটি ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হবে। প্রয়োজনে অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে আমরা উপজেলা পর্যায়েও তথ্য কমপ্লেক্স ভবন করার প্রকল্প হাতে নেব।

গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, আমার বাড়ি ময়মনসিংহে এবং এই জনপদের মানুষের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক, তাই মন্ত্রীর সহযোগিতায় ময়মনসিংহের মানুষের জন্য বিশেষ কিছু করতে চাই।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) জন কেনেডি জাম্বিল, জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান, ময়মনসিংহ গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান প্রমুখ। ময়মনসিংহ জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

প্রকল্পের ব্যয় ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯.৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ০৭ তলা বিশিষ্ট বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য ঠিকাদারের সাথে ১৮ মাস মেয়াদী চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ৪ এপ্রিল নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে কাজ শুরু হলো। নির্মিতব্য তথ্য কমপ্লেক্সে সিনেপ্লেক্স ও আইসিটি বিষয়াদি যেমন ইন্টারনেট, সাইবার ক্যাফে, ইনফরমেশন কিয়স্ক, ডিজিটাল আর্কাইভ এবং ডিজিটাল ল্যাব ইত্যাদির সংস্থান থাকবে। ফলে ইহা একটি তথ্য ভান্ডার হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র দেখার অভ্যাস গঠন ও চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন সাধন হবে। পাশাপশি সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ আমাদের জাতীয় জীবনে ঘটে যাওয়া আন্দোলন-সংগ্রামের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রসার করা সম্ভব হবে।

স্মার্ট বাংলাদেশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের সাধারণ জনগণ, শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, আইটি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদেরকে সেবা প্রদান করা এবং কোটি তরুণ-তরুণীদের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। পাশাপাশি বাংলাদেশকে বিশ্বের উন্নত, দক্ষ ও বহুমুখী আইসিটি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। জেলা তথ্য কমপ্লেক্সের আইসিটি সুবিধাদি এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়াও, আইসিটি সুবিধাদির মাধ্যমে ফ্যাক্ট চেকিং টুলস ব্যবহার করে গুজব ও ভুয়া খবর চিহ্নিত করে বস্তুনিষ্ট সংবাদ জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।

সর্বোপরি তথ্য কমপ্লেক্সটি একটি পরামর্শ কেন্দ্র হিসেবে সর্বস্তরের জনগণ, সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যম, স্থানীয় প্রেসক্লাব, কমিউনিটি রেডিও, পর্যটন কর্পোরেশন ও প্রবাসী কল্যাণের জন্য পরস্পরের মাঝে তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্র হিসেবে জনগণের ক্ষমতায়নে অনবদ্য অবদান রাখবে, প্রকল্পের তথ্যে এমনটাই জানা যায়।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিল ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগ। অনুষ্ঠানে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা, বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিস ও আঞ্চলিক তথ্য অফিসের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *