মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

সবকটি ধাপ সফলভাবে পার করে বিপিএসসি-র (বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন) মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেও নিয়োগবঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী মো. বোরহান উদ্দিন। চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে তাঁর নাম বাদ পড়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

বোরহান উদ্দিন নোবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসটিই) বিভাগের ২০১৫–১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

২০২১ সালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘সহকারী প্রোগ্রামার’ (৯ম গ্রেড) পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ ৪ বছরের প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ৮ জুলাই বিপিএসসি ৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে। এই তালিকায় মেধাক্রমে ১ নম্বরে ছিলেন বোরহান উদ্দিন। তবে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে বাকি ৩ জনের নাম থাকলেও রহস্যজনকভাবে বাদ পড়েন বোরহান।

ভুক্তভোগীর দাবি

হতবাক ও আশাহত বোরহান উদ্দিন জানান, তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন কোনো দৃশ্যমান আপত্তি ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, “আমার বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, মামলা বা অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। তবুও কেন আমাকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলো, তা আমার বোধগম্য নয়।”

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এ বিষয়ে বিপিএসসি-র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, “কমিশন বিধি অনুযায়ী চারজনকে সুপারিশ করেছিল। কমিশনের কাজ শুধু সুপারিশ করা পর্যন্তই। নিয়োগের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন অন্য সংস্থাগুলো করে থাকে। সম্ভবত ভেরিফিকেশনে কোনো সমস্যা থাকায় তাঁর নাম আসেনি, তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে।”

ছাত্রসমাজের প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা ‘সঠিক ভেরিফিকেশন’ এবং মেধার যথাযথ মূল্যায়নের দাবি তুলেছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ভুল প্রতিবেদনের কারণে কোনো মেধাবীর স্বপ্ন এভাবে চুরমার হওয়া জাতির জন্য লজ্জাজনক।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *