বিএনপি জিতলে প্রান্তিক কৃষকদের একটি ফসলের উৎপাদন খরচ দেবে রাষ্ট্র: প্রিন্স
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।

ফাইল ছবি।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে প্রান্তিক কৃষকদের একটি ফসলের উৎপাদন খরচ রাষ্ট্রের মাধ্যমে প্রদান করবে। প্রান্তিক কৃষককে লাভবান করতে বিএনপি সরকার ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্যমুক্ত করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে সরকারি ধান ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করবে।
গতকাল সোমবার ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গামারিতলা ইউনিয়নে পৃথক দুটি ওয়ার্ড বিএনপি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
পরিবর্তন ও কল্যাণ রাষ্ট্রের পরিকল্পনা
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তারেক রহমান কৃষক ও কৃষির কল্যাণে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি শ্রমিক, নারী, যুবক, বেকার, ছাত্র, শিক্ষক, মৎস্যজীবী, তাঁতী, ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে ইতিবাচক রাজনীতির সূচনা করছে।
তিনি তারেক রহমানের দেওয়া রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা এবং কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন:
- ফ্যামিলি কার্ড: প্রতিটি পরিবারে মা বা গৃহিণীর নামে “ফ্যামিলি কার্ডে”র মাধ্যমে সাংসারিক প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় দ্রব্যের একটি অংশ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।
- বেকার ভাতা: পরিবারের শিক্ষিত বেকারকে এক বছর বেকার ভাতা প্রদান করা হবে।
- কৃষকদের সহায়তা: প্রান্তিক কৃষককে দুটি ফসলের মধ্যে একটির উৎপাদন খরচ দেওয়া হবে।
- কর্মসংস্থান: সরকার গঠনের প্রথম ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
ধোবাউড়ার উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার চির অবহেলিত ধোবাউড়ার উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। ধানের শীষ বিজয়ী হলে ধোবাউড়ার উন্নয়নে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হবে:
- ধোবাউড়া সদরকে পৌরসভা ঘোষণা করা এবং কলকারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী গারো ও হাজং সম্প্রদায়ের সমস্যা সমাধানে তাদের নিরাপত্তাসহ তাদের পল্লীতে বিদ্যুতায়ন, রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং তাদের সংস্কৃতি ও ধর্ম-কর্ম পালনের সম্পূর্ণ স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করা।
ঐক্য ও নির্বাচন নিয়ে সতর্কতা
- জুলাই সনদ: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংসদ নির্বাচনের সাথে একইদিনে গণভোট আয়োজনে সকল দল একমত হলেও, জামায়াতে ইসলামীর ভিন্নমতের সমালোচনা করে প্রিন্স বলেন, তাদের এই আচরণ পিআর বা সনদ বাস্তবায়ন নয়, বরং নির্বাচন বিলম্বিত বা নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রের প্রমাণ।
- ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান: তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার এবং কোনো “হেডমগিরী বা নেটগিরী” না দেখানোর আহবান জানান। দলের হাই কমান্ড যাকে মনোনয়ন দেবে, ভেদাভেদ ভুলে তাকেই বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হবে।
এর আগে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ধোবাউড়ার গুজিরকান্দি বাজারে সম্প্রতি অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের দ্বারা নিহত মোহাম্মদ হোসাইনের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবীতে গ্রামবাসী আয়োজিত মানববন্ধনে যোগ দেন এবং নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
