মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনটি বরাবরই দেশের রাজনীতিতে ‘ভিআইপি’ মর্যাদা পেয়ে আসছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর এখন তাকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের জোরালো দাবি—এই আসনের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে তাকে নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হোক।
নোয়াখালী-৫ আসনটিকে রাজনৈতিক মহলে ভিআইপি হিসেবে বিবেচনা করার প্রধান কারণ এর ঐতিহাসিক নেতৃত্ব।
- এখান থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ উপ-প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও এই আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শীর্ষ নেতাদের প্রতিনিধিত্বের কারণে এই আসনটি দীর্ঘকাল ধরে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত।
মন্ত্রিত্বের দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে ঝড়
মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের বিজয়ের পর নোয়াখালীর সাধারণ মানুষ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়ে উঠেছেন। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দাবি জানানো হচ্ছে যে, যেহেতু এই আসনটি প্রথাগতভাবে মন্ত্রিত্ব পেয়ে আসছে, তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় ফখরুল ইসলামকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
অনেকেই লিখছেন, “এটি শুধু ব্যক্তির সম্মান নয়, বরং নোয়াখালী-৫ আসনের ঐতিহ্যের প্রশ্ন।” তরুণ প্রজন্মের অনেকেই মনে করেন, এই আসন থেকে একজন মন্ত্রী পাওয়া গেলে কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট এলাকার ঝুলে থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত গতি পাবে।
রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষন
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিত্ব প্রদানের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলীয় হাইকমান্ডের এখতিয়ার। তবে রাজনৈতিক গুরুত্ব ও আঞ্চলিক প্রভাব বিবেচনা করলে এই আসনটির দাবি উপেক্ষা করার মতো নয়। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের উত্তরসূরি হিসেবে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম যদি মন্ত্রিসভায় জায়গা পান, তবে তা নোয়াখালীর রাজনীতিতে বিএনপির অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।
বর্তমানে নোয়াখালীর মানুষের নজর এখন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের দিকে—দলীয় হাইকমান্ড জনমানুষের এই আবেগকে কতটা প্রাধান্য দেয়, তা দেখার অপেক্ষায় সবাই।
