মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একদম শেষ মুহূর্তে নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে নির্বাচনী উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্লিপ্ততার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন।
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও ইসির ভূমিকা
বিকেলে বসুরহাট বাজারে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন দাবি করেন, নির্বাচনের পরিবেশ দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। তিনি বলেন:
“আমরা নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই নানামুখী বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকেরা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং কেন্দ্র দখলের নীল নকশা করছে। এসব বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনে একাধিক লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ইসির এই নীরবতা আমাদের শঙ্কিত করছে।”
ককটেল বিস্ফোরণ ও আতঙ্ক
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী অভিযোগ করেন যে, গত কয়েক দিনে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এই ককটেল বিস্ফোরণ কিসের ইঙ্গিত? এটি কি সাধারণ ভোটারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে একটি বিশেষ পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার অপচেষ্টা নয়?” তিনি দাবি করেন, এ ধরনের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটারদের কেন্দ্রে আসা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চলছে।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন অবিলম্বে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি প্রশাসন ও পুলিশকে কোনো বিশেষ দলের পক্ষ না নিয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি নির্বাচনের দিন কোনো কেন্দ্রে কারচুপি বা পেশিশক্তির ব্যবহার হয়, তবে এর দায়ভার প্রশাসন ও কমিশনকেই নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা ও পৌর জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, এই অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
