মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

রাজনীতি মানেই শত্রুতা নয়, বরং আদর্শিক লড়াইয়ের মাঝেও যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা সম্ভব—তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নোয়াখালী-৫ আসন। নির্বাচনের এই উত্তাল সময়েও দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর সহাবস্থান জেলাজুড়ে ইতিবাচক বার্তার সৃষ্টি করেছে।
একই কাতারে ফখরুল ও বেলায়েত
সম্প্রতি জুমার নামাজের খুতবার আগ মুহূর্তে এক বিরল দৃশ্যের অবতারণা হয়। সেখানে একই কাতারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব ফখরুল ইসলাম এবং ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনকে। নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই নেতার এই সহাবস্থানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখছেন।
মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ
নোয়াখালী-৫ আসনের সাধারণ মানুষ দুই প্রার্থীর প্রতিই যে ভালোবাসা ও আস্থা দেখিয়েছেন, তা প্রমাণ করে এই জনপদের রাজনীতি এখনো মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধায় উজ্জ্বল। রাজনীতিতে হার-জিত থাকলেও জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়াই যে প্রকৃত জয়, এই দুই নেতা যেন সেই বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছেন তাদের কর্মীদের মাঝে।
উন্নয়নের অঙ্গীকার ও জনদাবি
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ঊর্ধ্বে উঠে এই জনপদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের দাবি এখন জোরালো। বিশেষ করে:
- নদীভাঙন কবলিত এলাকায় মুছাপুর ক্লোজারের দ্রুত নির্মাণ।
- জলাবদ্ধতা ও গ্যাস সংকট নিরসন।
- অবকাঠামোগত উন্নয়ন। ভোটারদের প্রত্যাশা, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার দেয়ালে আটকে না থেকে জনগণের স্বার্থে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বিজয়ী ও বিজিত উভয় পক্ষই।
শান্তির মডেলে নোয়াখালী-৫
দেশের অনেক স্থানে নির্বাচনি সহিংসতা দেখা গেলেও নোয়াখালী-৫ আসন এখন পর্যন্ত সহিংসতামুক্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখেছে। এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধরে রাখতে প্রার্থীদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্মীদের প্রতি দেওয়া সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রশংসার দাবি রাখে। প্রতিপক্ষকে শত্রু না ভেবে দেশ গড়ার সহযাত্রী ভাবার এই মানসিকতা আসনটিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি ‘মডেল আসন’ হিসেবে পরিচিত করতে পারে।




