মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর হাতিয়ায় নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে পাশবিক নির্যাতনের শিকার সেই নারীকে দেখতে আগামীকাল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নোয়াখালী যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামেরও যাওয়ার কথা রয়েছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে দুই নেতা তাকে দেখতে আসার প্রতিশ্রুতি দেন। নোয়াখালী-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ এবং জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভিডিও কলে সমবেদনা
ভিডিও কলে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ওই নারীকে ‘বোন’ সম্বোধন করে সান্ত্বনা দেন এবং বলেন, “আমি সোমবার আপনাকে দেখতে আসব।” অন্যদিকে, এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তাকে ‘মা’ সম্বোধন করে বলেন, “পুরো বাংলাদেশ আপনার পাশে আছে।”
নবনির্বাচিত এমপির হুশিয়ারি
নোয়াখালী-৬ আসনের নবনির্বাচিত এমপি আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, “হাতিয়ায় শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ায় নব্য বিএনপির লোকজন তাণ্ডব চালাচ্ছে। ২০১৮ সালের সুবর্ণচরের ঘটনার মতো এবার হাতিয়ায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এসব তাণ্ডব বন্ধে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, হাতিয়ার মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পাল্টা দাবি
নির্যাতনের শিকার ৩২ বছর বয়সী ওই নারী দাবি করেন, শুক্রবার রাতে স্থানীয় আবদুর রহমানসহ কয়েকজন যুবক তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করে। পরে স্বামীকে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়। তবে অভিযুক্ত আবদুর রহমান একটি ভিডিও বার্তায় এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ওইদিন রাতে তিনি নিজেই এনসিপির লোকজনের হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ওই নারী নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
