মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রাণ। এটি কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নয়, বরং জনমতের প্রতিফলনের মাধ্যম। কিন্তু যখন এই নির্বাচনকে ঘিরে ভীতি, আতঙ্ক ও অস্থিরতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তখন তা আর উৎসব থাকে না; বরং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়।
ভীতিকর পরিস্থিতির বহুমুখী ক্ষতি
নির্বাচন পূর্বকালীন অস্থিরতা ও ভয়ভীতির পরিবেশ সমাজের ওপর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে:
- ভোটাধিকার খর্ব: ভয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হয়, যা গণতন্ত্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়।
- সামাজিক অস্থিরতা: দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হয় এবং ভ্রাতৃঘাতী সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ে।
- অর্থনৈতিক স্থবিরতা: দোকানপাট, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ক্ষতি করে।
- আস্থার সংকট: রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনের ওপর জনগণের বিশ্বাস কমে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদী বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।
উত্তরণের পথ: আমাদের করণীয়
একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। পরিত্রাণের মূল পথগুলো হলো: ১. রাজনৈতিক সহনশীলতা: দলমত নির্বিশেষে একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা। ২. প্রশাসনের নিরপেক্ষতা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে কাজ না করে সম্পূর্ণ পেশাদার ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। ৩. গুজব প্রতিরোধ: গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে যাতে কোনো অপপ্রচার জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে। ৪. সামাজিক সচেতনতা: শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও সুশীল সমাজকে শান্তি ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।
উৎসব হোক নির্বাচনের মূলসুর
ভয় নয়—বিশ্বাস, সহিংসতা নয়—সহনশীলতা, আর প্রতিহিংসা নয়—আইনের শাসনই পারে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে। নির্বাচন হোক উৎসবের মতো, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নির্ভয়ে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। একটি সুস্থ ও উন্নত গণতান্ত্রিক জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে আমাদের এই সংস্কৃতি গড়ে তোলা আজ সময়ের দাবি।
