মোঃ মাসুদ মিয়া

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশে এখন উৎসবের আমেজ। পোস্টার, ব্যানার আর মাইকিংয়ে মুখর শহর থেকে গ্রাম। প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের জনসংযোগে ব্যস্ত। এবারের নির্বাচন শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, বরং এটি সামাজিক পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রদর্শনের এক বিশাল প্রতিফলন। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে নারী, প্রবাসী ও তরুণ ভোটাররাই জয়-পরাজয়ের মূল কারিগর হতে যাচ্ছেন।
নারী ভোটার: নীরব শক্তির জাগরণ
এবারের নির্বাচনে নারী ভোটারদের গুরুত্ব অপরিসীম। ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই (৬ কোটি ২৮ লাখ) নারী। আগে অনেক ক্ষেত্রে নারীদের সিদ্ধান্ত পরিবারের পুরুষদের দ্বারা প্রভাবিত হলেও, এখন সময় পাল্টাচ্ছে।
- অবদান: দেশের অর্থনীতি ও সংসারে নারীরা পুরুষের চেয়ে গড়ে ২১ ঘণ্টা বেশি কাজ করলেও তার আর্থিক স্বীকৃতি এখনও মেলেনি।
- প্রত্যাশা: শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে নারীরা এখন সচেতন। তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে দেওয়া একটি ভোটই পারে রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলে দিতে।
প্রবাসী ভোটার: ইতিহাসের নতুন অধ্যায়
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসীরা সরাসরি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এটি একটি মাইলফলক।
- ভোটের প্রক্রিয়া: ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ প্রবাসী নিবন্ধিত হয়েছেন এবং ৪ লাখেরও বেশি ব্যালট দেশে পৌঁছেছে।
- প্রভাব: সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার ও ওমানে থাকা প্রবাসীরা শুধু সরাসরি ভোটই দিচ্ছেন না, বরং দেশে থাকা তাদের পরিবারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলছেন।
তরুণ ভোটার: নির্বাচনের ‘ট্রাম্প কার্ড’
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তরুণরা। মোট ভোটারের প্রায় ৪৩ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে।
- নতুন ভোটার: প্রায় ৪৫ লাখ তরুণ এবারই প্রথম ভোট দেবেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এই প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়েছে।
- চাহিদা: তাদের দাবি খুব স্পষ্ট—কর্মসংস্থান, বাক-স্বাধীনতা, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক রাষ্ট্র। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে তরুণরা এখন যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থী খুঁজছেন।
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা
নারী, প্রবাসী ও তরুণ—এই তিন শ্রেণি আর প্রান্তিক নেই; তারাই এখন মূল চালিকাশক্তি। তারা এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে যারা বৈষম্যহীন সমাজ, মানবাধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত করবে। ১২ ফেব্রুয়ারি কেবল একটি ভোটের দিন নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য গণতন্ত্রের উৎসব।
বুলেটের চেয়ে ব্যালট শক্তিশালী। আপনার একটি সচেতন ভোটই গড়ে দিতে পারে একটি নিরাপদ ও আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি। তাই ঘরে বসে না থেকে নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন এবং দেশ গঠনে অংশ নিন।
