সাদ্দাম উদ্দিন রাজ, নরসিংদী জেলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনেই বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের ৬টি উপজেলার স্ব-স্ব সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
নরসিংদী-১ (সদর): বিশাল ব্যবধানে খোকন বিজয়ী
নরসিংদী সদর আসনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৭৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. ইব্রাহিম ভূঞা (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৩০ ভোট। এই আসনে ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৮.৮২ শতাংশ।
নরসিংদী-২ (পলাশ): ড. মঈন খানের জয়
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান ৯২ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমজাদ হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৫৫ হাজার ১৬১ ভোট। এছাড়া জামায়াত জোটের প্রার্থী মো. গোলাম সারোয়ার তুষার পেয়েছেন ১৯ হাজার ২৩৬ ভোট। এ আসনে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।
নরসিংদী-৩ (শিবপুর): মনজুর এলাহীর বিজয়
এই আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী ধানের শীষ প্রতীকে ৮১ হাজার ৪১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ-উল-ইসলাম মৃধা (হাঁস) পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪০১ ভোট। শিবপুরে ভোট প্রদানের হার ছিল ৬১ শতাংশ।
নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব): সাখাওয়াত বকুলের জয়
বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ১ লাখ ৬১ হাজার ৯১২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৪৫ ভোট। এই আসনে ৫৩.০৬ শতাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
নরসিংদী-৫ (রায়পুরা): বিজয়ী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল
রায়পুরা আসনে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তাজুল ইসলাম (রিকশা) পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৬৮২ ভোট। এই আসনে ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৯.০৫ শতাংশ।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ ভোট
জেলার ৫টি পৌরসভা ও ৭১টি ইউনিয়নের ৬৬৩টি ভোট কেন্দ্রে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে ছিল সেনাবাহিনীর ৬ শতাধিক সদস্য, ১৫ শতাধিক পুলিশ এবং ১৩ প্ল্যাটুন বিজিবি। এছাড়া র্যাব ও আনসার সদস্যরাও সার্বক্ষণিক মোতায়েন ছিলেন।





