মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকার ও বিরোধীদল গণতন্ত্রের দুই অপরিহার্য স্তম্ভ। বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে সরকারে আসছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট এবং শক্তিশালী বিরোধীদলে আসছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। উভয় পক্ষই দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি। দেশ ও জাতি গঠনের স্বার্থে এই দুই শক্তির পারস্পরিক সহমর্মিতা, সংলাপ ও সমন্বিত কর্মপ্রচেষ্টা এখন সময়ের দাবি।
একিভূতভাবে কাজ করার গুরুত্ব
১. জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া: দলীয় মতপার্থক্য থাকলেও অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নির্বাচন ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা ও মানবাধিকার—এসব জাতীয় ইস্যুতে সমঝোতা জরুরি। জাতীয় সংকট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান দেশকে স্থিতিশীল রাখে।
২. গণতন্ত্রের শক্ত ভিত্তি নির্মাণ: সরকারের কাজ পরিচালনায় বিরোধীদলের গঠনমূলক সমালোচনা প্রয়োজন। কিন্তু সেই সমালোচনা যদি সহযোগিতামূলক মনোভাবের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে নীতি প্রণয়ন আরও কার্যকর ও জনমুখী হয়।
৩. রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিভাজন কমানো: পারস্পরিক আস্থা ও নিয়মিত সংলাপ রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস করে। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থাবোধ বৃদ্ধি পায়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার এটিই শ্রেষ্ঠ সময়।
৪. উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা: সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়—এজন্য বড় জাতীয় প্রকল্প ও সংস্কার বিষয়ে সর্বদলীয় ঐকমত্য গুরুত্বপূর্ণ।
৫. আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা: দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রধান দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকলে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নত হয়। এটি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে সহায়ক।
গণতন্ত্রে মতভেদ থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে সেই মতভেদ যেন জাতীয় বিভেদে রূপ না নেয়। দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিলে সরকার ও বিরোধীদল উভয়ই দেশ ও জাতি গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও সহযোগিতাই হতে পারে অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি। নতুন যাত্রা হোক প্রতিহিংসামুক্ত এবং সমৃদ্ধ আগামীর জন্য।
