ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ: উচ্চমাধ্যমিকের ক্ষতি করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় নয়

প্রকাশের তারিখ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬:২১

ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজের জন্য প্রস্তাবিত কাঠামোয় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় করা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ছাত্ররা। আজ সোমবার ঢাকা কলেজ মিলনায়তনেছবি: মোশতাক আহমেদ

ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজকে নিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে এবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুরে ঢাকা কলেজ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কোনো পরিবর্তন তারা মেনে নেবে না। এই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ আমলে নেওয়ার জন্য তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

​শিক্ষার্থীরা জানায়, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে কলেজের ঐতিহ্যবাহী ১৮৪ বছরের উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে তারা গভীরভাবে চিন্তিত। তবে তারা সাতটি কলেজের জন্য আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে নয়, বরং তাদের মূল আশঙ্কা হলো এর ফলে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষাব্যবস্থা সংকুচিত হতে পারে।

​এই বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত দেখা যাচ্ছে।

  • শিক্ষকদের অবস্থান: গত বুধবার সাতটি কলেজের শত শত শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সামনে মানববন্ধন করে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়িত হলে কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতির মুখে পড়বে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এর ফলে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ কমে যাবে এবং শিক্ষকদের পদোন্নতি ও পদ-পদবি নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে। তাদের মতে, সাতটি কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়ার চেয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে কলেজগুলোকে তার অধিভুক্ত করা উচিত।
  • বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের অবস্থান: অন্যদিকে, ওইসব কলেজের কিছু শিক্ষার্থী প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী দ্রুত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে আন্দোলন করছে। তাদের দাবি, সোমবারের মধ্যে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট ঘোষণা আসতে হবে, অন্যথায় তারা আরও বড় কর্মসূচিতে যাবে।

​এই পরিস্থিতিতে ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তারা তাদের নিজস্ব স্বার্থের কথা তুলে ধরেছে, যাতে নতুন কোনো সিদ্ধান্তে তাদের শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *