ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের আগে কিয়েভে রাশিয়ার বড় হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আগামীকাল রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভলোদিমির জেলেনস্কির ঐতিহাসিক শান্তি বৈঠকের কথা রয়েছে। কিন্তু এই কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা এক নতুন চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার নজিরবিহীন হামলায় কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিশাল এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার ব্যাপক তান্ডব
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানায়, রাশিয়া কিয়েভসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে প্রায় ৫০০ ড্রোন এবং ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই ভয়াবহ হামলায় কিয়েভ অঞ্চলে প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার মধ্যে ঘরবাড়ি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত। জেলেনস্কি এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “রাশিয়া আলোচনার কথা বললেও আসলে তারা কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্র ও শাহেদ ড্রোনের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে চাপ সৃষ্টি করতে চায়।”
ইউক্রেনের দাবি: বিপর্যস্ত রুশ বাহিনী
ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, গত এক দিনে তীব্র লড়াইয়ে রাশিয়ার অন্তত ১ হাজার ২০০ সেনা হতাহত হয়েছে। এছাড়া তারা রাশিয়ার ৫টি ট্যাংক, ১৯টি সাঁজোয়া যান, ৩৩টি আর্টিলারি ব্যবস্থা এবং ২০৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। দক্ষিণ রাশিয়ায় একটি বড় তেল শোধনাগারে ‘স্টর্ম শ্যাডো’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার দাবিও করেছে ইউক্রেন।
রাশিয়ার প্রতিরোধ ও বক্তব্য
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রাতভর ইউক্রেনের নিক্ষেপ করা ৬২টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এসব ড্রোন সারাতোভ, রোস্তভ ও ক্রিমিয়ার আকাশসীমায় ধ্বংস করা হয়। ক্রেমলিনের দাবি, ইউক্রেন এই আলোচনার প্রাক্কালে বড় ধরনের নাশকতা চালিয়ে শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।
ট্রাম্পের ‘শান্তি উদ্যোগ’ ও মার-এ-লাগো বৈঠক
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুদ্ধ বন্ধে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আমি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি, তবে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন। তবুও আমি মনে করি রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই এখন শান্তি চুক্তি করতে আগ্রহী।”
আগামীকালকের বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। জেলেনস্কির মতে, এই শান্তি পরিকল্পনার প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং নতুন বছরের আগেই অনেক বড় সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
