​জালিয়াতি রুখতে আসছে কোয়ান্টাম মুদ্রাব্যবস্থা: নকল করা অসম্ভব!

জাহিদ হোসাইন খান।

কোয়ান্টাম মুদ্রা চালুর জন্য কাজ করছেন বিজ্ঞানীরাছবি: পেক্সেলস

​বিশ্বজুড়ে নকল বা জাল টাকা একটি বড় সমস্যা, যা নিয়ে প্রায়ই মানুষকে বিপত্তির মুখে পড়তে হয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিজ্ঞানীরা এখন বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর আদলে কোয়ান্টাম মুদ্রা চালুর জন্য কাজ করছেন। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, কোয়ান্টাম তথ্যের একটি ক্ষুদ্র আধার ভবিষ্যতে ডেবিট কার্ডের মতো কাজ করতে পারে। এর ফলে কোনো নকল, জাল বা জালিয়াতির সুযোগ ছাড়াই এই মুদ্রা ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

​কোয়ান্টাম মুদ্রার কার্যপ্রণালী: ‘নো-ক্লোনিং’ নীতি

​কোয়ান্টাম মুদ্রা প্রচলিত কাগজের নোট বা ডিজিটাল কোডের ওপর নির্ভর করে না। এটি তার তথ্য সঞ্চয় করে কোয়ান্টাম অবস্থায়

  • তথ্য সংরক্ষণ: কোয়ান্টাম মুদ্রা মূলত একটি ইলেকট্রনের স্পিন বা একটি ফোটনের পোলারাইজেশন বা মেরুকরণ অবস্থায় তথ্য সংরক্ষণ করে।
  • মূল ধারণা: কোয়ান্টাম মুদ্রার মূল ধারণাটি স্টিফেন উইজনার ১৯৮৩ সালে কনজুগেট কোডিং হিসেবে প্রস্তাব করেন।
  • নিরাপত্তা: কোয়ান্টাম অবস্থার নিখুঁত অনুলিপি করা যায় না—কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের এই মূল নীতির কারণে (যা নো-ক্লোনিং থিওরেম নামে পরিচিত), কোয়ান্টাম মুদ্রা ক্লোন করার চেষ্টা করলে তা সহজেই শনাক্ত করা যাবে। বিজ্ঞানীরা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে এই নিয়মকে নিরাপদ সঞ্চয়ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

​গবেষণায় কার্যকারিতা পরীক্ষা

​ফ্রান্সের প্যারিসের সোরবোন ইউনিভার্সিটিসিএনআরএসের কাস্টলার ব্রোসেল গবেষণাগারে বিজ্ঞানী জুলিয়েন লরাটের নেতৃত্বে কোয়ান্টাম মুদ্রা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে।

​গবেষণাকালে বিজ্ঞানীরা খুব দুর্বল আলোর স্পন্দনে গড়ে একক ফোটন প্রেরণ করেন, যা কিউবিট (একটি বিটসদৃশ কোয়ান্টাম অবস্থা) নামক কোয়ান্টাম অবস্থা বহন করে। এই অবস্থা আলোর পোলারাইজেশন হিসেবে বিদ্যমান থাকে। এরপর এই অবস্থাগুলোকে একটি কোয়ান্টাম মেমোরিতে লোড করা হয়।

সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা ফলাফলে বলা হয়েছে, কোয়ান্টাম মুদ্রা নিয়ে এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ‘নো-ক্লোনিং’ ভাবনাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন, যা এটিকে একটি নিরাপদ আর্থিক লেনদেন পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

সূত্র: আর্থ ডট কম

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *