ছুঁই ছুঁই করেও করা হলো না হাফ সেঞ্চুরি:বড় অসময়ে থামল জেনস সুমনের ইনিংসের সুর
শেখ মেহেদী হাসান নাদিম

মাত্র ১ রানের জন্য হাফ সেঞ্চুরি মিস করলে যেমন বুকটা ফেটে যায়, আজ আমার ঠিক তেমনই লাগছে। আমি এখন ৪৭-এ দাঁড়িয়ে, আর আমার বন্ধু জেনস সুমন ছিল আমার চেয়ে মাত্র দু’বছরের বড়। ৪৯-এর কোঠায় দাঁড়িয়ে সে যখন ৫০ ছোঁবে ছোঁবে করছে, ঠিক তখনই সব শেষ। আম্পায়াররূপী মহাকাল তাকে আউট ঘোষণা করে দিল। জীবনের এই পিচে হাফ সেঞ্চুরিটা আর করা হলো না তার।
সাংস্কৃতিক অঙ্গন তাকে চেনে এক দরাজ গলার গায়ক হিসেবে, ‘একটা চাদর হবে’ খ্যাত জেনস সুমন হিসেবে। কিন্তু আমি চিনি আমার হৃদয়ের বন্ধু হিসেবে। এই তো ক’দিন আগে, আমার বাসায় এসেছিল। সেই আড্ডা, সেই হাসি, সেই খুনসুটি—কে জানত সেটাই হবে আমাদের শেষ স্মৃতি? আমার ড্রয়িংরুমের প্রাণচঞ্চল আড্ডা থেকে সে যে জীবনের প্রাণটুকু চুরি করে নিয়ে যাবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি।
গত কিছুদিন ধরে দেখছিলাম, বিভিন্ন জায়গা থেকে তাকে একের পর এক অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হচ্ছে। টিভিতে, মঞ্চে তাকে সম্মানিত করা হচ্ছে। তখন আমার মনে এক অজানা খটকা লাগত। কেন যেন মনে হত, এগুলো কি কোনো বিদায়ী সংবর্ধনা? ফেয়ারওয়েল টাইপের কিছু? ভাবতাম, বন্ধু নতুন করে ফিরছে। কিন্তু আজ বুঝলাম, প্রকৃতি আসলে তাকে বিদায় দিচ্ছিল। আমরা বুঝিনি, আমরা উল্লাস করেছিলাম।

সে এভাবে কিছু না বলে চলে যেতে পারে না। আমার চোখের সামনে ভাসে ফখরুদ্দীনের দোকানের সামনে আমাদের সেই দাঁড়ানো ছবিটা। ওর চোখ-মুখে কী দীপ্তি! অথচ আজ সব অন্ধকার। আমি ক্ষুব্ধ, আমি অভিমানী। কার কাছে বিচার দেব? কার কাছে নালিশ করব যে, আমার বন্ধু কেন তার ইনিংস শেষ না করেই মাঠ ছাড়ল?
৪৯ বছর বয়সে হৃৎস্পন্দন থেমে যাওয়াটা কোনো স্বাভাবিক বিদায় নয়, এটা এক নিদারুণ অবিচার। সুমন, তুমি ওপারে ভালো থেকো। তোমার হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ না হলেও, আমাদের বন্ধুত্বের সেঞ্চুরিটা আমার হৃদয়ে আজীবন অপরাজিত থাকবে।
বারবার চশমাটা ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে! লিখতে পারছি না আর… নোমান ভাইকে আমার সালাম দিও! বিদায় বন্ধু, বড় অসময়ে বিদায়। আল্লাহ হাফেজ…

একটি অসমাপ্ত উপন্যাস
i cant accept it