গুগল ম্যাপে যা লুকানো, থার্মাল ভিশনে তা স্পষ্ট! এআই যুগের নতুন যুদ্ধক্ষেত্র
জাহিদ হাসান

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিব্রতীদের চোখ কপালে তুলে দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, গুগল ম্যাপসে আবুধাবির মরুভূমির যে স্থানে শুধুই বালুচর দেখা যাচ্ছিল, নাইট ভিশন ও থার্মাল ইমেজারি মোড অন করতেই সেখানে ধরা পড়েছে বিশাল এক গোপন সাম্রাজ্য।
কী আছে সেই থার্মাল ভিউতে?
মরুভূমির গভীরে লুকানো বিশাল এআই ডেটা সেন্টারের প্রতিটি বিল্ডিং, সার্ভার ফার্ম ও কুলিং সিস্টেমের তাপ স্বাক্ষর (Heat Signature) ইরানের প্রযুক্তিতে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। এরপরই আইআরজিসি এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়ে বলেছে, “গুগল যতই লুকিয়ে রাখুক, আমাদের দৃষ্টির বাইরে কিছুই থাকবে না।”
টার্গেট: ৩০ বিলিয়ন ডলারের ‘স্টারগেট’ প্রজেক্ট
ইরান খোলাখুলি ঘোষণা করেছে যে, ওপেনএআই-এর (OpenAI) ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রজেক্ট ‘স্টারগেট’ এখন তাদের নজরে। ইরান এই এআই ডেটা সেন্টারটি ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কিন্তু কেন এই চরম সিদ্ধান্ত? ইরানের দাবি—আমেরিকা যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, হাসপাতাল এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ধ্বংসের চেষ্টা করে, তবে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।
প্রতিরোধ নাকি আগ্রাসন?
দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার চেষ্টা এবং আলোচনার নামে তাদের মেধাবী নেতা ও বীর সেনাপতিদের হত্যার প্রতিবাদে ইরান একে ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, আমেরিকা ও ইসরায়েল জোটই এই আগ্রাসন শুরু করেছে, ইরান শুধু প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। আইআরজিসির ভাষায়— “তোমরা আমাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দাও, আমরা তোমাদের প্রাসাদে আগুন লাগাব।”
এআই যুগের নতুন সাম্রাজ্যবাদ
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি আর সাধারণ কোনো যুদ্ধ নয়; এটি প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার বিরুদ্ধে এক নতুন লড়াই। যারা প্রযুক্তির দাস বানিয়ে বিশ্বকে শাসন করতে চায়, তাদের সবচেয়ে গোপনীয় প্রকল্পগুলোই এখন ইরানের সরাসরি নিশানায়।
আগ্রাসনের জবাবে ইরানের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতের স্বাধীন দেশগুলোর জন্য এক বিশেষ দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে মনে করছেন মুক্তিকামী মানুষেরা।
