গণভোটের লক্ষ্য রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার: ময়মনসিংহে অধ্যাপক আলী রীয়াজ
রাশেদ আহমেদ নিসর্গ, ময়মনসিংহ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, “সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ হলেও এতোদিন তাদের বঞ্চিত রাখা হয়েছে। গণভোটের মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা। গণভোটে রায়ের মাধ্যমেই জনগণের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণ সম্ভব।”
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত ‘গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
সংবিধান ও উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বিগত সময়ে সংবিধান সংশোধন এক ধরনের ছেলেখেলায় পরিণত হয়েছিল। তিনি সংসদের উচ্চকক্ষের প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, “সংসদীয় সংস্কার প্রস্তাবে উচ্চকক্ষে ১০০টি আসন থাকবে, যেখানে ক্ষুদ্র দলগুলোরও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। এতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে একক আধিপত্য বন্ধ হবে।”
৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি কড়া সমালোচনা করে বলেন, “এই অনুচ্ছেদটি এমপিদের মুখে স্কচটেপ এঁটে দেওয়ার মতো। সংস্কার প্রস্তাবে অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্য সব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়েছে।”
অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না বা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস থাকবে না—এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা পুরোপুরি বোগাস। এমন অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না।” তিনি আরও বলেন, আমরা এমন এক সমাজ চাই যেখানে ব্যক্তির পরিচয় তার যোগ্যতায় হবে, বংশপরিচয়ে নয়।
জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই এই গণভোট। সংবিধান, নির্বাচন কমিশন ও পিএসসি সংস্কারের ব্যবস্থাপত্র হলো এই ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’।
উপস্থিতিবৃন্দ
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী, এনডিসি-এর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ.কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ আতাউল কিবরিয়া। সভায় চার জেলার জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
