মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় খরস্রোতা ধনু নদে চলাচলকারী বাল্কহেড ও মালবাহী জাহাজ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের সময় হাতেনাতে দুই চাঁদাবাজকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তাঁদের আর্থিক জরিমানা অনাদায়ে আইনগত শাস্তির মুখোমুখি করা হয়।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অলিদুজ্জামান নিজ কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড প্রদান করেন।
হাতেনাতে আটক ও ভ্রাম্যমাণ আদালত
আটককৃতরা হলেন—খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের মো. মুখলেছ (৫০) এবং একই গ্রামের ইমন মিয়া (৩২)।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ধনু নদ দিয়ে যাতায়াতকারী বিভিন্ন মালবাহী নৌযান ও বাল্কহেড আটকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইউএনও অলিদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের সামনের ধনু নদে অভিযান চালায়। এ সময় বাল্কহেড থেকে সরাসরি চাঁদা আদায়কালে ওই দুজনকে হাতেনাতে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
পরে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২৯১ ধারায় অপরাধ স্বীকার করায় প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে সর্বমোট ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ করার পর মুচলেকা রেখে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।
সিন্ডিকেটের তৎপরতা ও প্রশাসনের হুশিয়ারি
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, লেপসিয়া থেকে শুরু করে গাজীপুর ইউনিয়নের পাঁচহাট বাজারের সামনের ধনু নদ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ নৌপথে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিত বাল্কহেড ও ট্রলার থেকে বিপুল অঙ্কের চাঁদা আদায় করে আসছে। এতে সাধারণ নৌযান চালক ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অলিদুজ্জামান জানান, “ধনু নদে সব ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। নৌপথে সাধারণ চালকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের এই ঝটিকা অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”