‘কাঁচা’ টাকার নেশা, গারো পাহাড়ে থামছে না চোরাকারবারি

শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের গারো পাহাড় সীমান্তে চোরাচালান মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গত ৯ মাসে প্রায় শত কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় পণ্য জব্দ করলেও মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। আটক হচ্ছে শুধু স্বল্প আয়ের মানুষেরা।
বিজিবির তথ্যমতে, জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে মাদক, কসমেটিকস, শাড়ি, থ্রি-পিস, চিনি, জিরা এবং মোবাইল সরঞ্জাম। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে সীমান্ত এলাকার তরুণরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে এবং কিশোর গ্যাং গড়ে উঠছে, যাদের ভয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকরা আতঙ্কিত। চোরাচালান নিয়ে সংবাদ করায় গত কয়েক মাসে ১০ জনেরও বেশি সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, ২০০৯ সালে পাহাড়ি নদীতে বালুমহাল ইজারা দেওয়ায় মানুষের কর্মসংস্থান হওয়ায় চোরাচালান কমে গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সাল থেকে প্রভাবশালীরা নদী দখল করে বালু উত্তোলন শুরু করলে পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসন ইজারা বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই কর্মহীন মানুষ আবার চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা এই অবৈধ ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করে। একটি চালান ধরা পড়লেও অন্য চালান থেকে তারা বহুগুণ লাভ করে নেয়। ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদি হাসান জানান, দ্রুত বিপুল পরিমাণ অর্থ আয়ের লোভ এবং ধরা পড়ার পর জেল থেকে বেরিয়ে আবার একই কাজে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতার কারণে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
