ইসলামবিরোধী হলে সরকারের মসনদ কাঁপিয়ে দেব ইনশাআল্লাহ : বারহাট্টায় প্রতিবাদ সভায় রফিকুল ইসলাম মাদানি
বারহাট্টা প্রতিনিধি
প্রকাশ:২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫,সময়:০৪:০৫

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর বাজারে কোরআন অবমাননার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (২৩শে সেপ্টেম্বর) এ উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “ইসলামবিরোধী অবস্থান নিলে সরকারের মসনদ কাঁপিয়ে দেবো ইনশাআল্লাহ।”
সমাবেশে মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক মাঠের খেলোয়াড়, আমাদের আঞ্চলিক খেলোয়াড় বানাবেন না।” তিনি কুরআন অবমাননার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহার এবং অভিযুক্তদের তওবা করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীদের দাবি মেনে না নেওয়া হলে, সাত দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে। ইসলামবিরোধী অবস্থানে থাকার কারণে হাসিনার মসনদ যেভাবে কাঁপিয়ে দিয়েছিলাম, বর্তমান সরকারের অবস্থানও ইসলামবিরোধী হলে একইভাবে মসনদ কাঁপিয়ে দেওয়া হবে।”
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বারহাট্টার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) প্রত্যাহার এবং জেলা শহর অবরোধের মতো পদক্ষেপ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই রাতে চন্দ্রপুর গেইরা বাজারে কুরআন অবমাননার ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, কামালপুর জয়কৃষ্ণ নগরের ফজু মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান বাজার মসজিদ থেকে একটি কুরআন শরিফ নিয়ে যান। পরে নাজমা ও বেগমা আক্তারের আশ্রয়ে থাকা এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি সেটি অবমাননা করেন, যে সময় সেখানে তার কিছু অনুসারী উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় ১৪ জুলাই রাতে বারহাট্টা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ নাজমা আক্তার ও মানসিক ভারসাম্যহীন আবু বক্করসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তীতে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল থেকে কিছু অংশগ্রহণকারীর বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করে।
সাত দফা কর্মসূচি ঘোষণা
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুফতি তাহের কাসেমী। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা থেকে আগত মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়জী। এছাড়া মুফতি রিজওয়ান রফিকী, মুফতি আরিফ জব্বার কাসেমীসহ স্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা উপস্থিত ছিলেন।
মুফতি তাহের কাসেমী জানান, প্রাথমিক দাবিগুলো আদায় না হলে নিম্নোক্ত সাত দফা কর্মসূচি পালন করা হবে:
- ২৫ সেপ্টেম্বর: জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান।
- ২ অক্টোবর: জরুরি বৈঠক।
- ৪ অক্টোবর: সাংবাদিক সম্মেলন।
- ৮ অক্টোবর: মানববন্ধন।
- ১৩ অক্টোবর: বিক্ষোভ মিছিল।
- ১৯ অক্টোবর: বারহাট্টা অবরোধ।
- ২ নভেম্বর: নেত্রকোনা জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় বর্তমানে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতি সংক্রান্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
