ইরানের ‘পিউর জিনিয়াস’ চাল; ইসরায়েলি ডিফেন্স সিস্টেমকে যেভাবে বোকা বানালো তেহরান!
জাহিদ হাসান রনক

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপগুলোকে ‘পিউর জিনিয়াস’ বা অনন্য রণকৌশল হিসেবে দেখছেন অনেক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক। গতকাল রাতে ইসরায়েলের ওপর চালানো হামলার ধরণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইরান সরাসরি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের চেয়ে বুদ্ধিমত্তাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে।
আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখার কৌশল
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান শুরুতে তাদের পুরোনো প্রযুক্তির ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহার করে ইসরায়েলের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে (Iron Dome) ব্যস্ত করে তোলে। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলি ডিফেন্স সিস্টেমকে ক্লান্ত করা এবং তাদের ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর মিসাইলগুলোর শক্তি ক্ষয় করা। পুরোনো প্রযুক্তি দিয়ে শত্রুপক্ষের আধুনিক ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করাকেই বলা হচ্ছে নিখুঁত রণকৌশল।
আসল সক্ষমতা প্রদর্শন কি এখনও বাকি?
বিশ্লেষকদের ধারণা, গতকাল রাতে ইসরায়েলে যা দেখা গেছে, তা ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতার সামান্য একটি অংশ মাত্র। ইরান সম্ভবত তাদের অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী হাইপারসনিক মিসাইল বা মূল অস্ত্রগুলো এখনও প্রদর্শন করেনি। শটদলে বড় ধরণের হামলা চালানোর আগে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষায় ফাটল ধরানোর এই পদ্ধতিটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দূরদর্শী পদক্ষেপে ‘জিনিয়াস’ ইরান
রণকৌশলে ইরান যে কতটা দূরদর্শী, তা তাদের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপে স্পষ্ট। সরাসরি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে না জড়িয়ে আগে শত্রুপক্ষের রসদ ও মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার এই ‘থার্ড ডাইমেনশন’ যুদ্ধরীতি ইরানকে একধাপ এগিয়ে রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ইরান তাদের আসল সক্ষমতা বা ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ হামলা কবে বা কীভাবে পরিচালনা করে।
