আমাজনের দৈত্যাকার গাছগুলো বড় হচ্ছে কেন
জাহিদ হোসাইন খান।

আমাজন বন। ফাইল ছবি।
পৃথিবীর ফুসফুস হিসেবে পরিচিত আমাজন বন দিন দিন আরও ঘন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাজনের দৈত্যাকার গাছগুলো নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ভালোভাবে টিকে আছে। একই সঙ্গে এসব গাছের আকার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নতুন গাছের সংখ্যাও বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এই গাছগুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধির সুযোগ
গত ৩০ বছরে আমাজনের ১৮৮টি অক্ষত বনাঞ্চলের ওপর গবেষণা করেছেন ব্রাজিল, যুক্তরাজ্যসহ ৬০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০০ গবেষক। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি দশকে বড় গাছের সংখ্যা ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষকেরা এই বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। তেল, গ্যাস ও কয়লা পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়েছে, আর বিশাল বিশাল গাছ সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে।
বিজ্ঞানী অ্যাড্রিয়েন এসকুইভেল–মুয়েলবার্ট বলেন, “আমরা জানতাম, বড় বড় গাছ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল হতে পারে। এই গবেষণায় আমরা দেখছি, এসব গাছ বেশ স্থিতিস্থাপক। আমরা তাদের মরে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখছি না; বরং তারা আকারে বাড়ছে ও সংখ্যায় বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
ঝুঁকির মধ্যে স্থিতিস্থাপকতা
বিজ্ঞানীরা এই গবেষণার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে বনের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। যদিও কিছু এলাকায় গাছের আকার বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু অনেক এলাকায় খরা, বজ্রপাত ও আগুনের ঘটনার সংখ্যাও বাড়ছে। সেসব এলাকায় বড় গাছ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জোর দিয়ে বলেন, জলবায়ুকে স্থিতিশীল রাখার জন্য অক্ষত বনভূমি রক্ষা করা জরুরি। আমাজন বন একটি প্রাকৃতিক কার্বন সিঙ্ক হিসেবে কাজ করে।
তবে বিজ্ঞানী এসকুইভেল–মুয়েলবার্ট সতর্ক করে বলেন, কার্বন ডাই-অক্সাইডের বৃদ্ধি বনের জন্য উপকারী হলেও, এতে বড় বড় গাছ খরার মতো অন্যান্য ঝুঁকির প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে। আরেক বিজ্ঞানী রেবেকা ব্যানবেরি মর্গান বলেন, গাছ আকারে বড় হচ্ছে, যা একধরনের ইতিবাচক খবর। কিন্তু এর অর্থ হলো, বন এখন ওই সব গাছ হারানোর জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বন উজাড় ও গাছ কাটার প্রভাব এখনও আমাজনের স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় ঝুঁকি।
