৫০০ টাকার বাজির খেসারত: মাদারগঞ্জে জীবন্ত শালিক পাখি চিবিয়ে খাওয়া সেই ‘হিংস্র’ সাদুল্লাহ গ্রেপ্তার

​সুলতান আহম্মেদ, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে ৫০০ টাকার বাজির শর্ত পূরণে এক জীবন্ত শালিক পাখি ধরে পালক ও ডানা ছিঁড়ে কাঁচা চিবিয়ে খাওয়ার মতো পৈশাচিক ও নৃশংস ঘটনার মূল অভিযুক্ত সাদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সকালে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​এর আগে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে মাদারগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

​৫০০ টাকার বাজি ও পৈশাচিক কাণ্ড

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার একপর্যায়ে ৫০০ টাকার বাজি ধরে অভিযুক্ত সাদুল্লাহ। বাজির শর্ত ছিল—একটি জীবন্ত শালিক পাখি ধরে তা কাঁচা চিবিয়ে খেতে হবে। নরপিশাচ সাদুল্লাহ সেই নিষ্ঠুর শর্ত মেনেই সবার সামনে একটি জীবন্ত শালিক পাখি ধরে তার পালক, ঠোঁট ও পা ছিঁড়ে কাঁচা মাংস চিবিয়ে খায়।

​উপস্থিত অনেকের মনে চরম ভীতি ও শিহরণ জাগানো এ দৃশ্য মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি কোনো সুস্থ মানুষের কাজ হতে পারে না! সামান্য ৫০০ টাকার জন্য একটি অবলা জীবকে যারা এভাবে খেতে পারে, আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

​প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অভিযোগ ও পুলিশের অভিযান

​ঘটনাটি জানাজানি হলে মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তৎপর হয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ আজ সকালে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সাদুল্লাহকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

​এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায় জানান, “এটি অত্যন্ত নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিযুক্ত সাদুল্লাহকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা রুজু করে আজই আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

​এই পৈশাচিক ঘটনায় স্থানীয় পরিবেশবাদী ও পাখিপ্রেমী মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা এ ধরনের নৃশংস অপরাধের কঠোর বিচার দাবি করেছেন।